ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্ভাব্য বাসযোগ্য নতুন গ্রহের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
এইচডি-১৩৭০১০ বি। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে একটি নতুন সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গ্রহটির নাম 'এইচডি-১৩৭০১০ বি'। বিজ্ঞানীদের দাবি, এটি আকারে পৃথিবীর কাছাকাছি এবং নিজ নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থানের সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ।

গবেষণা অনুযায়ী, এইচডি-১৩৭০১০ বি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বড় এবং একটি সূর্য-সদৃশ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৫৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের- কেটু (K2) ২০১৭ সালের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রহটি শনাক্ত করেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ড. চেলসি হুয়াং বলেন, এই গ্রহটির কক্ষপথ পৃথিবীর মতো হওয়ায় এটি গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতের উন্নত টেলিস্কোপ দিয়ে গ্রহটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

গ্রহটি প্রথম শনাক্ত হয় যখন এটি নিজ নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, ফলে নক্ষত্রের আলো সামান্য ম্লান হয়ে যায়। এই সংকেত প্রথম ধরতে সক্ষম হন প্লানেট হান্টারস নামে নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন গবেষণার প্রধান লেখক ড. আলেক্সান্ডার ভেনার, যিনি তখন ছিলেন একজন স্কুলছাত্র।

ভেনার বলেন, শিক্ষাজীবনে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়াই তাকে গবেষণার পথে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে একই তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারে অংশ নিতে পারা তার কাছে ছিল স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন

তবে গ্রহটির তাপমাত্রা নিয়ে রয়েছে উদ্বেগজনক তথ্য। যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে এইচডি-১৩৭০১০ বি ঘোরে, সেটি আমাদের সূর্যের তুলনায় কম উজ্জ্বল ও ঠান্ডা। ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মঙ্গল গ্রহের মতো হতে পারে এবং তা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন এমন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. সারা ওয়েব সতর্ক করে বলেছেন, এখনো গ্রহটিকে নিশ্চিতভাবে বহিঃগ্রহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। কারণ এখন পর্যন্ত মাত্র একবার ট্রানজিট সংকেত পাওয়া গেছে, যেখানে সাধারণত তিনবার সংকেত পাওয়াকে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রহটি পৃথিবীর মতো হওয়ার পাশাপাশি এটি একটি ‘সুপার স্নোবল’- অর্থাৎ বরফে ঢাকা বিশাল পানিসমৃদ্ধ গ্রহও হতে পারে, যেখানে অধিকাংশ পানি জমে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানান, গ্যালাক্সির হিসেবে গ্রহটি তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হলেও বর্তমান প্রযুক্তিতে সেখানে পৌঁছাতে মানুষের দশ হাজার থেকে লাখো বছর লেগে যেতে পারে।

তবুও গবেষকদের আশা- ভবিষ্যতের আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তি ও শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে এইচডি-১৩৭০১০ বি একদিন বহিঃগ্রহ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ড. খালিদ, বাংলাদেশে পঞ্চম
টানা দুইবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় কুবি শিক্ষক শফি উল্যাহ্
বর্জ্য হিসেবে ফেলা হয় ১২ হাজার টন কমলার খোসা, ১৬ বছর পর ‘চোখ ছানাবড়া’ বিজ্ঞানীদের