পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে একটি নতুন সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গ্রহটির নাম 'এইচডি-১৩৭০১০ বি'। বিজ্ঞানীদের দাবি, এটি আকারে পৃথিবীর কাছাকাছি এবং নিজ নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থানের সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ।
গবেষণা অনুযায়ী, এইচডি-১৩৭০১০ বি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বড় এবং একটি সূর্য-সদৃশ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৫৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে।
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের- কেটু (K2) ২০১৭ সালের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রহটি শনাক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ড. চেলসি হুয়াং বলেন, এই গ্রহটির কক্ষপথ পৃথিবীর মতো হওয়ায় এটি গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতের উন্নত টেলিস্কোপ দিয়ে গ্রহটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
গ্রহটি প্রথম শনাক্ত হয় যখন এটি নিজ নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, ফলে নক্ষত্রের আলো সামান্য ম্লান হয়ে যায়। এই সংকেত প্রথম ধরতে সক্ষম হন প্লানেট হান্টারস নামে নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন গবেষণার প্রধান লেখক ড. আলেক্সান্ডার ভেনার, যিনি তখন ছিলেন একজন স্কুলছাত্র।
ভেনার বলেন, শিক্ষাজীবনে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়াই তাকে গবেষণার পথে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে একই তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারে অংশ নিতে পারা তার কাছে ছিল স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
তবে গ্রহটির তাপমাত্রা নিয়ে রয়েছে উদ্বেগজনক তথ্য। যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে এইচডি-১৩৭০১০ বি ঘোরে, সেটি আমাদের সূর্যের তুলনায় কম উজ্জ্বল ও ঠান্ডা। ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মঙ্গল গ্রহের মতো হতে পারে এবং তা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন এমন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. সারা ওয়েব সতর্ক করে বলেছেন, এখনো গ্রহটিকে নিশ্চিতভাবে বহিঃগ্রহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। কারণ এখন পর্যন্ত মাত্র একবার ট্রানজিট সংকেত পাওয়া গেছে, যেখানে সাধারণত তিনবার সংকেত পাওয়াকে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রহটি পৃথিবীর মতো হওয়ার পাশাপাশি এটি একটি ‘সুপার স্নোবল’- অর্থাৎ বরফে ঢাকা বিশাল পানিসমৃদ্ধ গ্রহও হতে পারে, যেখানে অধিকাংশ পানি জমে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানান, গ্যালাক্সির হিসেবে গ্রহটি তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হলেও বর্তমান প্রযুক্তিতে সেখানে পৌঁছাতে মানুষের দশ হাজার থেকে লাখো বছর লেগে যেতে পারে।
তবুও গবেষকদের আশা- ভবিষ্যতের আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তি ও শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে এইচডি-১৩৭০১০ বি একদিন বহিঃগ্রহ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরটিভি/এমএইচজে





