ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাচ্ছেন এই ৪ নভোচারী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
রিড উইজম্যান, ক্রিস্টিনা কক, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। ছবি: সংগৃহীত

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার সদস্যের দল। প্রায় ৫০ বছর পর এই ঐতিহাসিক অভিযান আবার মানুষের চন্দ্রাভিযানের দ্বার খুলতে যাচ্ছে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, রিড উইজম্যান, ক্রিস্টিনা কক, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে গঠিত এই দল ১০ দিনের যাত্রায় চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরবে। এ সময় তারা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করবেন, যা ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ অভিযানের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে।

যদিও এই মিশনে চাঁদের বুকে অবতরণের পরিকল্পনা নেই, তবে এটি ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক ধাপ। এই অভিযানের মধ্য দিয়েই প্রথমবার মানুষের উপস্থিতিতে নাসার নতুন প্রজন্মের স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুলের পরীক্ষা চালানো হবে।

আরও পড়ুন

নাসা জানিয়েছে, চার মহাকাশচারী ইতোমধ্যে কোয়ারেন্টাইনে প্রবেশ করেছেন। সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের তারিখ ধরা হয়েছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। উৎক্ষেপণের আগে তারা ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছাবেন।

মিশনের কমান্ডার রিড উইজম্যান বলেন, আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। এই অভিযানের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে।

নাসার কর্মকর্তারা জানান, এই দলটির বিশেষত্ব হলো চাঁদ অভিযানে প্রথমবারের মতো একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন কানাডীয় মহাকাশচারী অংশ নিচ্ছেন। ফলে এই মিশন বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের দিক থেকেও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

এদিকে এই মিশনের সদস্যরা নিজেদের পরিবারের স্মৃতিচিহ্ন সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ পরিবারের চিঠি, কেউ ধর্মীয় গ্রন্থ, আবার কেউ বিশেষ স্মারক পেনডেন্ট বহন করবেন। নাসার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন মহাকাশচারীদের মানসিক শক্তি জোগায়।

আর্টেমিস-২ মিশনের মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতের আর্টেমিস-৩ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নাসা। এই মিশনে ওরিয়ন ক্যাপসুলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই, ডকিং কৌশল অনুশীলন এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হবে।

নাসার এক কর্মকর্তা বলেন, এই অভিযান শুধু একটি যাত্রা নয়, এটি ভবিষ্যতের চন্দ্রবসতির ভিত্তি গড়ে তোলার প্রথম ধাপ। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
মহাকাশে নতুন যাত্রা, চার নভোচারীকে পাঠাচ্ছে নাসা
এবার মহাকাশে মিষ্টি কুমড়া রান্না করে খেলেন নভোচারীরা
মহাকাশে কোরআন তিলাওয়াতকারী প্রথম আফগান নভোচারীর মৃত্যু
২৭ বছর ধরে মহাকাশ স্টেশনে ফাটল, নভোচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ