এক বছরে পৃথিবী নিয়ে ৯ চমকপ্রদ আবিষ্কার

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:১৫ পিএম


এক বছরে পৃথিবী নিয়ে ৯ চমকপ্রদ আবিষ্কার
প্রতীকী ছবি

পৃথিবীকে আমরা যতটা জানি বলে মনে করি, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি অজানা এখনও রয়ে গেছে। সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহটি নিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা, যা অনেক সময় আমাদের প্রচলিত ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এক বছরে পৃথিবী সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে, যা শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখার সুযোগও তৈরি করেছে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, পৃথিবীর একটি ‘কোয়াসি-চাঁদ’ রয়েছে। PN7 নামে এই গ্রহাণুটি আসলে চাঁদ নয়, তবে এটি পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৬০ বছর ধরে পৃথিবীর কক্ষপথের আশপাশে অবস্থান করছে এবং আরও কয়েক দশক থাকবে।

এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৬ মাইল গভীরে ‘হ্যাডাল জোন’ এলাকায় বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর জীবজগতের সন্ধান পেয়েছেন। সূর্যালোকবিহীন এই অঞ্চলে টিউব ওয়ার্ম, ঝিনুকসহ নানা প্রাণী মিথেন গ্যাস থেকে শক্তি নিয়ে বেঁচে থাকে— যা জীবনের ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

পৃথিবীর অভ্যন্তর নিয়েও এসেছে নতুন তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সোনা ও অন্যান্য ধাতব উপাদান ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আসতে পারে। আগ্নেয়গিরির লাভার মাধ্যমে এই ধাতু ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায় বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। আর্কটিক অঞ্চলের স্থায়ী বরফ বা পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কার্বন মুক্ত হয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, পরিবেশ রক্ষায় অপ্রত্যাশিত ভূমিকা রাখছে বিভার। গবেষণায় দেখা গেছে, এ প্রাণী নদীতে বাঁধ তৈরি করে জলাভূমি সৃষ্টি করে, যা বিপুল পরিমাণ কার্বন ধারণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।

আরও পড়ুন

এছাড়া বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গভীর স্তর বা ম্যান্টলে ভূমিকম্পের অস্তিত্বও শনাক্ত করেছেন। আগে ধারণা করা হতো, এই স্তরে তেমন ভূমিকম্প ঘটে না। নতুন এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্প সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে সহায়ক হতে পারে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্যের আরেকটি উদাহরণ পাওয়া গেছে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে। সেখানে নেকড়ে পুনঃপ্রবর্তনের ফলে হরিণের সংখ্যা কমে, যার ফলে অ্যাসপেন গাছ আবার বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে।

জীবনের উৎপত্তি নিয়েও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এসেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলকণার ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা ‘মাইক্রোলাইটনিং’ থেকেই হয়ত পৃথিবীতে জীবনের সূচনা হয়েছিল।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য এসেছে জ্বালানি খাতে। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি— (বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তি) কয়লাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করে যে পৃথিবী এখনও রহস্যে ভরা। একই সঙ্গে এই গ্রহকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তাও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission