ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

এক বছরে পৃথিবী নিয়ে ৯ চমকপ্রদ আবিষ্কার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

পৃথিবীকে আমরা যতটা জানি বলে মনে করি, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি অজানা এখনও রয়ে গেছে। সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহটি নিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা, যা অনেক সময় আমাদের প্রচলিত ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এক বছরে পৃথিবী সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে, যা শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখার সুযোগও তৈরি করেছে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, পৃথিবীর একটি ‘কোয়াসি-চাঁদ’ রয়েছে। PN7 নামে এই গ্রহাণুটি আসলে চাঁদ নয়, তবে এটি পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রায় ৬০ বছর ধরে পৃথিবীর কক্ষপথের আশপাশে অবস্থান করছে এবং আরও কয়েক দশক থাকবে।

এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৬ মাইল গভীরে ‘হ্যাডাল জোন’ এলাকায় বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর জীবজগতের সন্ধান পেয়েছেন। সূর্যালোকবিহীন এই অঞ্চলে টিউব ওয়ার্ম, ঝিনুকসহ নানা প্রাণী মিথেন গ্যাস থেকে শক্তি নিয়ে বেঁচে থাকে— যা জীবনের ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

পৃথিবীর অভ্যন্তর নিয়েও এসেছে নতুন তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সোনা ও অন্যান্য ধাতব উপাদান ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আসতে পারে। আগ্নেয়গিরির লাভার মাধ্যমে এই ধাতু ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায় বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। আর্কটিক অঞ্চলের স্থায়ী বরফ বা পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কার্বন মুক্ত হয়ে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, পরিবেশ রক্ষায় অপ্রত্যাশিত ভূমিকা রাখছে বিভার। গবেষণায় দেখা গেছে, এ প্রাণী নদীতে বাঁধ তৈরি করে জলাভূমি সৃষ্টি করে, যা বিপুল পরিমাণ কার্বন ধারণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।

আরও পড়ুন

এছাড়া বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গভীর স্তর বা ম্যান্টলে ভূমিকম্পের অস্তিত্বও শনাক্ত করেছেন। আগে ধারণা করা হতো, এই স্তরে তেমন ভূমিকম্প ঘটে না। নতুন এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্প সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে সহায়ক হতে পারে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্যের আরেকটি উদাহরণ পাওয়া গেছে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে। সেখানে নেকড়ে পুনঃপ্রবর্তনের ফলে হরিণের সংখ্যা কমে, যার ফলে অ্যাসপেন গাছ আবার বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে।

জীবনের উৎপত্তি নিয়েও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এসেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলকণার ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা ‘মাইক্রোলাইটনিং’ থেকেই হয়ত পৃথিবীতে জীবনের সূচনা হয়েছিল।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য এসেছে জ্বালানি খাতে। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি— (বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তি) কয়লাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করে যে পৃথিবী এখনও রহস্যে ভরা। একই সঙ্গে এই গ্রহকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তাও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
কফি আবিষ্কারের নেপথ্যে যে মুসলিম অজপাল
ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী নতুন ওষুধ আবিষ্কার
বিরল প্রজাতির সাপের সন্ধান, গবেষকদের নতুন আবিষ্কার
৪০০০ বছর পর আবিষ্কৃত হলো হারিয়ে যাওয়া নীল নদের শাখা