ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘরে কি অকটেন তৈরি করা যায়?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

ফেনীর সোনাগাজীতে ইউটিউব দেখে সম্প্রতি ‘অকটেন তৈরির চেষ্টা’ করতে গিয়ে বিস্ফোরণে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর এখন দেশজুড়ে আলোচিত প্রশ্ন- ঘরে কি আসলেই অকটেন তৈরি করা যায়?

বিশেষজ্ঞ ও জ্বালানি শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এর সরল উত্তর হলো না। ঘরে অকটেন তৈরি করা সম্ভব নয়। এটি চেষ্টা করাও খুব বিপজ্জনক।

অকটেন একটি গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোকার্বন, যার বাংলা নাম অকটেন এবং রাসায়নিক সংকেত Octane (C₈H₁₈)। এটি মূলত পেট্রোলের একটি প্রধান উপাদান, যা ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ও জ্বালানির মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— ঘরে বসে কি অকটেন তৈরি করা সম্ভব? বাস্তবতা হলো, এটি একেবারেই সম্ভব নয় এবং চেষ্টা করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অকটেন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন উন্নত শিল্প প্রযুক্তি ও জটিল প্রক্রিয়া। তেল শোধনাগারে ভগ্নাংশীয় পাতন পদ্ধতির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল থেকে বিভিন্ন উপাদান আলাদা করা হয়। এরপর অনুঘটক ক্র্যাকিং এবং রিফর্মিং এর মাধ্যমে জ্বালানির মান উন্নত করে উচ্চ অকটেনসমৃদ্ধ পেট্রোল তৈরি করা হয়। এসব প্রক্রিয়ায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, উচ্চ তাপমাত্রা এবং চাপ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ গৃহস্থ পরিবেশে সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

এছাড়া এই ধরনের কাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ এবং ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমনের ঝুঁকি থাকে। ফলে মানুষের জীবন ও সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এসব কাজ কেবলমাত্র প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞরা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করে থাকেন।

আইনগত দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ একটি নিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম। যথাযথ অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কাজ করা আইনত অপরাধ।

সবশেষে বলা যায়, ঘরে বসে অকটেন তৈরি করা অসম্ভব, ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেআইনি। তাই নিরাপদ উপায়ে জ্বালানি ব্যবহার করতে হলে অনুমোদিত উৎস থেকেই পেট্রোল সংগ্রহ করা উচিত।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জাহাজ
এবার ধানক্ষেত থেকে বিপুল অকটেন উদ্ধার
দেশে বেড়ে গেল পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের দাম, লিটার কত?
ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরির চেষ্টা, বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ব্যবসায়ী