ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রার শঙ্কা, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এল নিনো। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে তৈরি হওয়া উষ্ণ পানির বিশাল প্রবাহ চলতি বছরে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর মূল কারণ হলো ‘কেলভিন ওয়েভ’ নামে পরিচিত উষ্ণ পানির বিশাল ঢেউ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর অংশ দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিছু এলাকায় পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পাওয়া গেছে।

জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিজ্ঞানী মিশেল এল’হিউরো বলেন, বর্তমান কেলভিন ওয়েভ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি ১৯৯৭ সালের সুপার এল নিনোর সমতুল্য।

১৯৯৭-৯৮ সালের সুপার এল নিনো বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হয়েছিল। এছাড়া ১৮৭৭-৭৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোতে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে সমুদ্র আগের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে নতুন এল নিনো আরও তীব্র হতে পারে। এই উষ্ণতার উৎস হিসেবে ধরা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বে অবস্থিত ‘ওয়েস্ট প্যাসিফিক ওয়ার্ম পুল’ অঞ্চলকে, যা পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ সমুদ্র এলাকা।

কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে?

কেলভিন ওয়েভের যাত্রা শেষ হলে প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাবে। এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের স্বাভাবিক বজ্রঝড় পূর্ব দিকে সরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের বড় পরিবর্তন ঘটাবে। এই পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ আবহাওয়া বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ তাপ ও আর্দ্রতা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়বে।

কোথা থেকে আসে এত উত্তাপ?

কেলভিন ওয়েভের শক্তির মূল উৎস পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রাঞ্চল, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব দিকের এলাকা। ট্রেড উইন্ডসের কারণে সেখানে বিপুল পরিমাণ উষ্ণ পানি জমা হয়। দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং ধারাবাহিক লা নিনার প্রভাবে ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ তাপ সঞ্চিত হয়েছে।

যখন ট্রেড উইন্ড দুর্বল হয়ে ‘ওয়েস্টার্লি উইন্ড বার্স্ট’-এ পরিণত হয়, তখন পশ্চিম দিকের শক্তিশালী বাতাস উষ্ণ পানিকে পূর্ব দিকে ঠেলে দেয়। এতে সমুদ্রের তাপমাত্রার ভারসাম্য বদলে গিয়ে কেলভিন ওয়েভ তৈরি হয়, যা সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে অগ্রসর হয়।

এই ঢেউ পেরুর উপকূলে পৌঁছালে গভীর সমুদ্রের ঠান্ডা পানি ওপরে ওঠার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে শক্তিশালী এল নিনো সৃষ্টি করতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, ১৯৯৭ সালের পর এত শক্তিশালী পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব