ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রার শঙ্কা, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এল নিনো। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে তৈরি হওয়া উষ্ণ পানির বিশাল প্রবাহ চলতি বছরে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই সম্ভাব্য সুপার এল নিনোর মূল কারণ হলো ‘কেলভিন ওয়েভ’ নামে পরিচিত উষ্ণ পানির বিশাল ঢেউ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর অংশ দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিছু এলাকায় পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পাওয়া গেছে।

জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিজ্ঞানী মিশেল এল’হিউরো বলেন, বর্তমান কেলভিন ওয়েভ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি ১৯৯৭ সালের সুপার এল নিনোর সমতুল্য।

১৯৯৭-৯৮ সালের সুপার এল নিনো বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হয়েছিল। এছাড়া ১৮৭৭-৭৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোতে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে সমুদ্র আগের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে নতুন এল নিনো আরও তীব্র হতে পারে। এই উষ্ণতার উৎস হিসেবে ধরা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বে অবস্থিত ‘ওয়েস্ট প্যাসিফিক ওয়ার্ম পুল’ অঞ্চলকে, যা পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ সমুদ্র এলাকা।

কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে?

কেলভিন ওয়েভের যাত্রা শেষ হলে প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাবে। এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের স্বাভাবিক বজ্রঝড় পূর্ব দিকে সরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের বড় পরিবর্তন ঘটাবে। এই পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ আবহাওয়া বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ তাপ ও আর্দ্রতা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়বে।

কোথা থেকে আসে এত উত্তাপ?

কেলভিন ওয়েভের শক্তির মূল উৎস পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রাঞ্চল, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব দিকের এলাকা। ট্রেড উইন্ডসের কারণে সেখানে বিপুল পরিমাণ উষ্ণ পানি জমা হয়। দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং ধারাবাহিক লা নিনার প্রভাবে ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ তাপ সঞ্চিত হয়েছে।

যখন ট্রেড উইন্ড দুর্বল হয়ে ‘ওয়েস্টার্লি উইন্ড বার্স্ট’-এ পরিণত হয়, তখন পশ্চিম দিকের শক্তিশালী বাতাস উষ্ণ পানিকে পূর্ব দিকে ঠেলে দেয়। এতে সমুদ্রের তাপমাত্রার ভারসাম্য বদলে গিয়ে কেলভিন ওয়েভ তৈরি হয়, যা সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে অগ্রসর হয়।

এই ঢেউ পেরুর উপকূলে পৌঁছালে গভীর সমুদ্রের ঠান্ডা পানি ওপরে ওঠার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে শক্তিশালী এল নিনো সৃষ্টি করতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, ১৯৯৭ সালের পর এত শক্তিশালী পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানবসভ্যতার আগেই কি পৃথিবীতে এসেছিল ভিনগ্রহীরা? কৌতূহল জাগায় যেসব বৈজ্ঞানিক সূত্র
মানবসভ্যতা গড়ে ওঠার আগে পৃথিবীতে ভিনগ্রহীদের আগমনের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। তবে পৃথিবীর প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং অন্য নক্ষত্র থেকে সৌরজগতে বস্তু প্রবেশের ঘটনা এ সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার সুযোগ রাখছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
মানবসভ্যতার আগেই কি পৃথিবীতে এসেছিল ভিনগ্রহীরা? কৌতূহল জাগায় যেসব বৈজ্ঞানিক সূত্র
বাংলাদেশের আকাশে চলতি মাসেই দেখা যাবে ৫ মহাজাগতিক দৃশ্য 
চলতি অক্টোবরে বাকি ১৩ দিনে দারুণ কিছু মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আকাশে।
বাংলাদেশের আকাশে চলতি মাসেই দেখা যাবে ৫ মহাজাগতিক দৃশ্য 
মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, গবেষণায় নতুন মোড়
শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মানুষের চোখে সবুজ দেখায়, এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, গবেষণায় নতুন মোড়
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য