মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, সব বিষয়ে মতানৈক্য থাকতেই পারে, তবে কিছু মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত আনসারী তার পোস্টে লিখেছেন, ‘মনে পড়ছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ দুই বছর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশে নীরবে গণতন্ত্রকে পিষে ফেলা: বিচারাধীন লাখো মানুষ’। সেখানে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেতারা শত শত মামলার বোঝা বয়ে কোর্টের বারান্দায় রাত কাটাতেন, এবং নির্বাচন সামনে রেখে পুরো বিরোধী শিবিরকে পক্ষাঘাতে পরিণত করা হচ্ছিল।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেশ চালানোর আকাঙ্ক্ষা অপরাধ নয়, বরং তা থাকা উচিত। তবে তা যেন অতীতের নির্মম অভিজ্ঞতা ও নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ভুলে নয়। এখনো এক ভয়ংকর দানব পেছনে তাড়া করছে, সুযোগ পেলেই ছোবল দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমরা দেখেছি, সেই দানবের বিরুদ্ধে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য—রাস্তায়, কারাগারে, মঞ্চে, বক্তৃতা-বিবৃতিতে।’
পোস্টে তিনি স্মৃতিচারণ করে লেখেন, ‘ধানের শীষ একসময় হয়ে উঠেছিল সার্বজনীন প্রতীক। সবাই একে অপরের দুঃখ ভাগ করেছেন, একই স্টেজে দাঁড়িয়েছেন, গণমানুষের মঞ্চে মাইক্রোফোন তুলে দিয়েছেন।’
কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করেই রাষ্ট্রদূত আনসারী লেখেন, ‘একবার অন্তত ভাবুন সেই গুম-খুনের ভয়াবহ সময়, ফাঁসির মঞ্চে নেতাদের প্রাণ বিসর্জন, ছাত্র-জনতার বুক পেতে গুলির মুখে দাঁড়ানো সেই সাহস। যে নেতৃত্বের মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তুলে দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন চালানো হয়েছে, সেই নেতৃত্ব ও ঐক্য কি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে না?’
রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও লেখেন, ‘প্রধান রাজনৈতিক দলকে দেশের অভিভাবকত্ব পাওয়ার আগে রাজনৈতিক অভিভাবকত্বে পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখা জরুরি। সব বিষয়ে ঐকমত্য না থাকলেও কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য অত্যাবশ্যক। নিজেদের এবং দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ যেন আবার অন্ধকারে নিমজ্জিত না হয়।’
আরটিভি/এএইচ





