ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কোলে মৃত শিশু: ভাইরাল হওয়া ছবির প্রকৃত ঘটনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তিন বছর বয়সী মৃত শিশু সাদমানকে কোলে নিয়ে এক যুবকের বসে থাকার ছবিটি গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অধিকাংশ ব্যবহারকারী ছবিটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, সন্তানের লাশ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা। তবে এই ছবির পেছনের প্রকৃত ঘটনা এবং সাদমানের মায়ের দেওয়া তথ্যমতে, ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

শিশু সাদমানের মা মিম আক্তার গণমাধ্যমের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে খবরটি ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। ছবিতে সাদমানের মরদেহ কোলে থাকা ব্যক্তিটি তার বাবা নন, বরং সম্পর্কে সাদমানের দুলাভাই রাফি। তিনি জানান, একমাত্র সন্তান সাদমানকে হারানোর শোক সইতে না পেরে তার বাবা মো. সজিব এখনো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং শোকাতুর অবস্থায় বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মা জানান, সাদমান খুব চঞ্চল ছিল এবং অসুস্থতার সময়ও সে মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করত। তবে এবার জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর সে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলেছেন সাদমানের মা। মিম আক্তার দাবি করেন, হাসপাতালে তাদের সন্তানের চিকিৎসায় ব্যাপক অবহেলা করা হয়েছে। নার্সদের একাধিকবার ডাকলেও তারা সাড়া দিতেন না এবং সাদমানের অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে সমস্যায় পড়লে উল্টো নার্সদের অসহযোগিতার শিকার হতে হয়েছে। আইসিইউ থেকে তাদের সন্তানের অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হলেও বাস্তবে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি এবং শেষ পর্যন্ত টেস্ট রিপোর্ট সম্পর্কেও তাদের সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, মৃতদেহ কোলে নিয়ে সিএনজিতে অপেক্ষমান সেই আত্মীয় রাফি জানান, সাদমানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই তিনি হাসপাতালে ছুটে যান এবং দ্রুত মরদেহ নিয়ে বের হয়ে আসেন। খরচ এবং সময়ের কথা বিবেচনা করে তারা সিএনজি বেছে নেন। ফ্লাইওভার পার হওয়ার আগে সিএনজিতে থাকা অবস্থায় দুই ব্যক্তি এসে শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, এর বাইরে কারও সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানিয়েছেন ভিন্ন তথ্য। তিনি জানান, গত ১৬ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে সাদমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৮ এপ্রিল তাকে ক্রিটিক্যাল ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে তার রক্তে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ বা সেপটিসেমিয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ডা. আসিফ দাবি করেন, হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ও আইসিইউ কনসালটেন্টদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পরও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাকে ভিডিওতে এনে বাবার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তাশরীফ
ইসলামী ধর্মীয় বক্তা হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়া এবং তার খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ উঠেছে। ছেলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। এ ঘটনার পর পারিবারিক বিষয়ে খোলাসা বক্তব্য দেন তাশরীফ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফেসবুক লাইভে এসে এ বক্তব্য দেন তিনি ভিডিওতে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, পিতামাতার খেদমত করা ফরজ। তাদের খেদমত অবশ্যই করতে হবে। তবে সেটির সৌন্দর্য থাকে। মানুষ পিতামাতার সঙ্গে বসবাস করে, খাওয়া-দাওয়া করে। পিতামাতাকে খরচ দেয়। কিন্তু আমি ছোটবেলাতেই আমার বাবার কাছ থেকে আলাদা।  বাবার প্রতি অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমার মাকে আমার বাবা নির্মম অত্যাচার করতেন। তরকারিতে লবন বেশি হলে মাকে মারধর করতেন। আমার বাবার বিভিন্ন জায়গায় বিয়ে করার বিষয়গুলো নিয়ে যখন জানতে চাইতেন, তখনই আমার মায়ের ওপর শুরু হতো অত্যাচার। আমার ছোট বোনের জন্মের পর আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন। নানা বেঁচে না থাকায় অনেক কষ্ট করেছি। আমার মা অত্যন্ত ধৈর্যশীল একজন মানুষ। আমি আজকে বলতে পারি মায়ের দোয়ার কারণেই আমি হয়তো এতটুকু আসতে পেরেছি।  তাশরীফ বলেন, ৪ বছর বয়সে আমাকে এতিম খানায় ভর্তি করা হয়। এতিম খানা ভর্তির পর আমার জীবনের ১৮/১৯ টি বছর ছিল অত্যন্ত মাজলুমের। সে সময় আমার মনে হতো আমার বাবা এই পৃথিবীতে আমার জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু।  তিনি বলেন, কখনও মানুষকে বাবা-মা ডেকে, মানুষের বাড়িতে কাজ করে পড়াশুনা চালিয়েছি। বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পরিক্ষার ফর্মের টাকা পর্যন্ত আমার বাবা দিতেন না। সেই প্রতিযোগীতায় পাওয়া পুরস্কারের টাকা গুলো আবার সে নিয়ে নিতেন, আমাকে দুটি টাকাও দিতেন না। বাবা মিথ্যা বলছেন অভিযোগ করে তাশরীফ বলেন, তাকে সবসময়ই টাকা ওেয়া হয়েছে, ২০/৩০ হাজার টাকা দিলেও নেয় না। কিন্তু তার চাওয়া লাখ লাখ টাকা, গাড়ি।  কোরবানির মাংস না দেওয়ার বিষয়ে জানান, আমি কোরবনির গোশত পাঠিয়েছি কিন্তু তা সে নেয়নি। মোবাইল চেয়েছেন, আমি মোবাইল দিয়েছি।  চিকিৎসা করাতে বলেছেন, আমি বলেছি একটু সময় দাও, কিন্তু উনি তা না শুনে ভিক্ষা করেছেন। আমাকে ছোট করার জন্য এই কাজ করেছেন। বাবার বিরুদ্ধে দাদা-দাদিকে কষ্ট দেওয়ার অভিযোগ করে তাশরীফ বলেন, তিনি নিজের বাবা-মাকে, সন্তানদের, স্ত্রীকে অত্যাচার করে সে মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তাশরীফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ভিডিওতে তাশরীফের মা বলেন, তাশরীফ তার বাবার ভরণ-পোষণ বা খোঁজখবর নেন না বলে যে অভিযোগ ‍উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, তাশরীফ তার বাবাকে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু সম্প্রতি ঝগড়া-ঝাটির কারণে দুই তিন মাস ধরে সেটা দিচ্ছে না, তাই তার বাবা তার নামে এমন মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। মূলত তিনি চান না তার ছেলে এত উপরে ওঠুক আর তিনি নিচে থাকেন। তাশরীফের বাবা অন্য মানুষের কথা শুনে চলেন বলেও অভিযোগ করেন তার মা। তিনি বলেন, মানুষ তাকে (তাশরীফের বাবাকে) বলে, তোর ছেলে এত উপরে থাকবে আর তুই এভাবে থাকবি কেন’— মানুষের এসব কথা শুনে তিনি তাশরীফের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন। এ সময় তাশরীফের বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ ১৭-১৮টি বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাশরীফের মা বলেন, তাশরীফের বাবা তো অনেক বিয়ে করেছেন। আমি তার ঘরে থাকতেই তিনি সাতটি বিয়ে করেন। আমি আসার পর শুনেছি, তিনি ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন। আরটিভি/এসআর
মাকে ভিডিওতে এনে বাবার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তাশরীফ
শাপলা হাতে প্রধান শিক্ষিকার প্রেম নিবেদনের পোস্ট ভাইরাল
পদ্মবিল থেকে এক আঁটি পদ্ম তুলে আনা, নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে কারও অপেক্ষায় থাকা—এমন কাব্যিক আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক শিক্ষিকা। পদ্ম হাতে ছবি দিয়ে কবিতার ভাষায় ভালো লাগা ও আবেগ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন মাজিশাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তন্নী রহমান।
শাপলা হাতে প্রধান শিক্ষিকার প্রেম নিবেদনের পোস্ট ভাইরাল
অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ দেন না তাশরীফ, অভিযোগ বাবার
দেশে নানা ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিতে প্রায়ই আলোচনায় আসেন ইসলামী বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। বিভিন্ন বিষয়ে ন্যায়-নীতি ও জ্ঞানগর্ভ কথা বললেও নিজের অসুস্থ বাবার খোঁজখবর নেন না এবং ভরণপোষণের জন্য অর্থ দেন না বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ।
অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ দেন না তাশরীফ, অভিযোগ বাবার
জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ক্ষমতায় না গিয়েই যারা ভিন্নমতের মানুষের জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আরও বর্বর হবে। তাই সবার নৈতিক দায়িত্ব জামায়াত-শিবিরের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করা।
জানাজা-দাফনে বাধা দিচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে আরও বর্বর হবে: রাশেদ খাঁন
‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন প্রখ্যাত নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক সোহেল রানা।
‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’
আরও পড়ুন
শাশুড়িকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল বহন, ভিডিও ভাইরালের পর চাকরি হারালেন চালক
৯ গোল হজমের পর সাদ-সোহেলের নাইটক্লাবের ভিডিও ভাইরাল!