মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, ভিডিও বার্তায় শিক্ষক বললেন আমি কিছুই জানি না

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ১০:৫৩ এএম


মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, ভিডিও বার্তায় শিক্ষক বললেন আমি কিছুই জানি ন
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা পরিবার ত্যাগ করার পর তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মাদরাসার পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর তাকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

​সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, তিনি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন এবং এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। মেয়েটি অনিয়মিতভাবে মাদরাসায় আসত এবং তার আচরণ ও চলাফেরা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। মেয়েটি তার নানার সাথে থাকত এবং দীর্ঘ পাঁচ-ছয় মাস আগে মাদরাসা ছেড়ে চলে যায়। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করতে তিনি ডিএনএ টেস্ট ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

​শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার। তিনি জানান, শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, যা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

​মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী সব ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission