ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মুসলিম হয়ে অমুসলিম দেশে বসবাস নিয়ে ইসলামের বিধান জানালেন আজহারী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। ফাইল ছবি

জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মুসলমান মানুষকে বিশ্বের নানা স্থানে যেতে হয়, বসবাস করতে হয়। কখনো আপন মাতৃভূমি ছেড়ে মত ও আদর্শের বিপরীত ভূমিকেও বেছে নিতে হয় স্থায়ী আবাস রূপে। প্রশ্ন ওঠে- যদি কোনো মুসলমান এমন দেশকে আবাসস্থল রূপে বেছে নিতে চায় বা তার জন্মস্থানই হয় এমন দেশ—যেখানে ইসলামি আদর্শ ও স্থানীয় সমাজনীতির সম্পূর্ণ ভিন্ন! তাহলে একজন মুসলিম হিসেবে তার করণীয় কী? সে কি পারবে এমন দেশে বসবাস করতে?

সম্প্রতি ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

নিচে তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, কোনো মুসলিম অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাইলে তাকে অবশ্যই দাওয়াতের (ইসলামের দিকে আহ্বান) নিয়তে থাকতে হবে। তবে অস্থায়ী বসবাস যেমন, চিকিৎসা, পড়াশোনা, ভ্রমণ ইত্যাদির বেলায় ভিন্ন কথা। তখন দাওয়াতের নিয়ত থাকা আবশ্যক নয়।

তিনি বলেন, অমুসলিম দেশে বসবাসের ব্যাপারে রাসুল সা. কঠিনভাষায় সতর্ক করে বলেছেন—‘তার ব্যাপারে আমার কোনো দায়-ভার নেই, যে মুশরিকদের সাথে অমুসলিম দেশে বসবাস করে।’ রাসুলের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি এটা। তবে এ হুঁশিয়রি থেকে তখনই একজন মুসলিম মুক্তি পাবে, যখন—তার নিয়ত থাকবে, অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া।

মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, যথাযথ উপস্থাপনার যোগ্যতার অভাবে আমরা অমুসলিম দেশগুলোতে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হই। বিপরীতে অমুসলিমরা তাদের ‘বস্তাপঁচা’ মতবাদ, চিন্তা-চেতনা বা আইডিয়লজি বিশ্বের সামনে চোখ ধাঁধানো আঙ্গিকে উপস্থাপন করে। ফলে মানুষ সেটাকেই শ্রেষ্ঠ ভাবতে মনে করছে। তাই আমাদের দাওয়ার পদ্ধতি ভালো ভাবে জানতে হবে।

অমুসলিম দেশে বসবাসরত মুসলিমদের ধর্মীয় দায়িত্বের আলোচনায় বিশ্বনন্দিত এই তরুণ স্কলার বলেন, আমরা যারা অমুসলিম দেশে বসবাস করি, প্রত্যেকের জানা থাকা দরকার আমরা প্রত্যেকেই ইসলামের প্রতিনিধি। আমাদের দেখে অমুসলিমরা ইসলামকে বিচার করবে। আমরা মিথ্যা বললে, লেনদেনে কারচুপি করলে—তারা আমাদের গালি দেবে না; বরং বলবে মুসলমানরা এমনই। এ জন্য আমাদের উচিত সতর্ক থাকা এবং একজন মুসলিম হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। আর আমরা এই ভূমিকা তখনই পালন করতে পারব, যখন নিজে ইসলামকে জানতে ও বুঝতে পারব, ইসলামের চেতনা ও আদর্শ নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারব। তাই আসুন ইসলামের ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। না জানলে আমল করব কীভাবে?

ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনা করতে গিয়ে ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, আসলে আমাদের সম্মান হলো ইসলামে। হজরত ওমর ফারুক রা. বলতেন, আমরা এমন জাতি যাদেরকে আল্লাহ তাআলা ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন। যদি আমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও সম্মান তালাশ করি, তাহলে তিনি আমাদের অপদস্ত করবেন। মনে রাখবেন ভাইয়েরা, আল্লাহর কাছে মনোনিত ধর্ম হলো একমাত্র ইসলাম। আল্লাহ বলেছেন, ইসলাম ছাড়া কেউ যদি অন্য ধর্ম তালাশ করে তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা আল-ইমরান: ৮৫)

এছাড়াও ভিডিওবার্তায় তিনি শরিয়ত মেনে চলায় আল্লাহর তাওফিক কামনা করেন। এবং ইসলাম ধর্মালম্বী সর্বসাধারণকে শরিয়ত মেনে চলার ও সন্তানদের শরিয়ত শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
অজুর পর বিড়ি বা সিগারেট খেলে কি অজু ভেঙে যায়? নাকি সেই অজুতেই নামাজ আদায় ও পবিত্র কোরআন স্পর্শ করা যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ও মাসআলা রয়েছে।
বিড়ি খেলে কি অজু ভেঙে যায়
আজকের নামাজের সময়সূচি
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি বা অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: আজহারী
মক্কা-মদিনাকে নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী ফেসবুক পোস্ট
অপ্রতিমসহ তিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহর স্ট্যাটাস
ঈদে মিলাদুন্নবীতে আবেগঘন বার্তা আজহারীর