অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মুখরোচক ফুচকা (ভিডিও)

সাদিয়া কানিজ

মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর ২০২২ , ০৩:৪৭ পিএম


সব বয়সীদের কাছে মুখরোচক ফুচকা-চটপটির কদর সব সময়ই বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেটে কিংবা রাস্তার পাশে ফুচকার দোকান ঘিরে জটলা লেগেই থাকে। কিন্তু সেই ফুচকা কোথায়, কোন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে? জানা নেই অনেকেরই। খামিরে মেশানো হয় পোড়া পামতেল। ভাজা হয় দীর্ঘদিনের পুরনো কুচকুচে কালো তেলে। কোথাও আবার ফুচকা বানানোর সরঞ্জাম রাখা হয় টয়লেটে, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে।  

বিজ্ঞাপন

স্কুল ছুটির পর এই জটলা ফুচকা, পানিপুরি অথবা ভেলপুরি খাওয়ার জন্য। নিয়মিতই এসবের স্বাদ নেওয়ার জন্য ছুটির অপেক্ষায় থাকে শিক্ষার্থীরা। 

এক শিক্ষার্থী বলেন, দেখেও না দেখার ভান করা হয়। এটা নিয়ে ভাবি না। মজা লাগছে, তাই খাচ্ছি। অনেক সময় খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে যায় শরীরটা। তা সত্ত্বেও ওষুধ সেবনের পরেও সেগুলো খায়। কারণ এটা ভালো লাগে।

বিজ্ঞাপন

অপর শিক্ষার্থী বলেন, খাওয়ার পরেও আমাদের পেট ব্যথা করে। ফুচকা-ভেলপুরির দোকানেই পাওয়া যায়। অন্যকিছুর দোকান স্কুলের আশপাশে নেই। 
 
শুধু স্কুলের সামনে নয়, রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে এবং রাস্তার ধারে দেখা যায় ফুচকা-চটপটির দোকান ঘিরে ব্যস্ততা। তবে অনেকেরই এর প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে ধারণা নেই। কেউ আবার অস্বাস্থ্যকর জেনেও নিয়মিত খান মুখরোচক এই খাবার।    

ফুচকা খেতে আসা এক তরুণী বলেন, এটা দেখেও খাচ্ছি। তবে এটা উচিত না। কারণ এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায়। এটা যদি আরেকটু স্বাস্থ্যকরভাবে করে তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।    

বিজ্ঞাপন

আরেক ক্রেতা বলেন, অবশ্যই ভোক্তা অধিকারের উচিত সরেজমিনে এসে পর্যবেক্ষণ করা। আমরা যেহেতু খাচ্ছি, এটা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে তৈরি করা হয়।  

রাজধানীর কামরাঙ্গীচরের এই ফুচকা কারখানায় ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ! বাথরুমের দরজার ঠিক পাশেই মেঝেতে খোলা রাখা হয়েছে কাঁচা ফুচকা। যেখানে হরহামেশাই বসছে মাছি। খামির বানাতে মেশানো হচ্ছে পোড়া পামতেল। 
 
পাশের দৃশ্য আরও ভয়াবহ। পরিত্যক্ত বাথরুমের কমোড ঘিরে রাখা হয়েছে ফুচকা তৈরির যত সরঞ্জাম। 

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যবিদরা জানান, অস্বাস্থ্যকর এসব খাবার খেলে ডায়রিয়া, কলেরা, পেটের পীড়া ও কিডনিজনিত রোগ বাসা বাধে শরীরে। শুধু তাই না, মারণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, ফুচকা, ভাজা পরটাসহ যেসব স্ট্রিটফুড আমরা খাই, সেগুলোর বেশিরভাগই দূষিত। বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ক্যানসারের উপাদান আছে। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়গুলো প্রথম থেকেই উপেক্ষিত। আইনে শাস্তির পরিমাণ নগণ্য। এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এর জন্য বেশ কিছু সংস্থা প্রয়োজন, যেগুলো তৈরি করতে হবে। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। শাস্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে।    

ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি রোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ জনস্বাস্থ্যবিদদের।

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission