তপ্ত রোদে গরম হয়ে উঠেছে পাথরের সিঁড়ি। সেই সিঁড়িতেই সারি সারি লাইনে ঝুঁকে বসে আছে নারীরা। সবার হাত পেছনে রাখা। সামনে নেই কোনো পাত্র। তারা খাবার খাচ্ছে সেই সিঁড়ির ওপরেই শুধু মুখ দিয়ে। দৃশ্যটা কঠিন, অস্বস্তিকর কিন্তু থামছে না কেউ।
একটু পরেই চোখে পড়ে আরেকটা দৃশ্য। একই জায়গায় দেখা যায় অন্য সারিতে তারা শুয়ে অনেকেই একদম চুপচাপ, স্থির হয়ে। আর সেই শরীরের ওপর দিয়েই হেঁটে যাচ্ছে মানুষ। কেউ যাচ্ছে পূজার সামগ্রী নিয়ে, কেউ এগিয়ে যাচ্ছে সামনে। কিন্তু এত কষ্ট কেন? শুধুই একটি সন্তান?
হ্যাঁ ভারতের তামিলনাড়ুর একটি মন্দিরে শুধুমাত্র একটি সন্তানের আশায় বছরে একবার এখানে জড়ো হন শত শত নারী। তাদের বিশ্বাস, এই বিশেষ আচার মেনে চললে সন্তান লাভের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে তারা এখানে আসেন, অপেক্ষা করেন সুযোগের জন্য। তবে সবাই অংশ নিতে পারেন না নির্দিষ্ট কিছু নারীই এই আচার পালন করার সুযোগ পান।
আচার শুরুর আগে তারা প্রার্থনা করেন। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এগোতে হয়। হাত ব্যবহার করা যাবে না এই নিয়মটাই সবচেয়ে কঠিন। পাথরের গরম সিঁড়িতে ঝুঁকে থেকে শুধু মুখ দিয়ে খেতে হয় খাবার। অনেকের জন্য এটা শারীরিকভাবে কষ্টকর, কিন্তু তারা নিয়ম ভাঙেন না।
তারপর আসে আরও কঠিন ধাপ। কিছু নারী মাটিতে শুয়ে থাকেন, আর অন্যরা তাদের শরীরের ওপর দিয়ে হেঁটে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়াটা চলে বিশ্বাস আর নিয়মের মধ্যে। বাইরে থেকে দেখলে বিষয়টা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের কাছে এটা এক ধরনের মানত, এক ধরনের প্রার্থনা।
অনেক নারী বছরের পর বছর ধরে সন্তানের আশায় এই আচার পালন করে যাচ্ছেন। কারও চোখে ক্লান্তি, কারও মুখে দৃঢ়তা তবে সবার ভেতরেই আছে একটাই আশা।
আরটিভি/এমএইচজে



