অসুখ সারাতে তারা চিকিৎসকের কাছে নয়, এসেছেন পুকুরপাড়ে। সেখানে ডাব, গাব ও মাটির ঘোড়া ছুড়লেই নাকি মিলছে সুস্থতা! এমন বিশ্বাস থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। আর এটি কোনো সাধারণ সময়ে নয়, বরং প্রতি বছর বৈশাখ মাসজুড়ে চলে এই আয়োজন। বিশেষ এই লোকসমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাজারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভক্তি, বিশ্বাস আর লোকজ সংস্কৃতির এক মেলবন্ধন, যা প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো।
বৈশাখ মাসের শুরু থেকে পুরো মাসজুড়ে প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে মেলা বসে। জনশ্রুতি রয়েছে, পীর শাহচেতন ইয়ামেনী (রহ.) বহু আগে এই এলাকায় এসে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবতার বাণী প্রচার করেছিলেন। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে। প্রতিদিনই এই মাজারে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। কেউ আসেন দোয়া করতে, কেউ মানত পূরণ করতে, আবার কেউবা আসেন মানসিক প্রশান্তির খোঁজে।
লোকমুখে শোনা যায়, মাজারসংলগ্ন পুকুরে ডাব ও গাব মানত করে নিক্ষেপ করলে শিশুদের নানাবিধ অসুখ-বিসুখ সেরে যায়। বিশেষ করে যেসব শিশু হাঁটতে পারে না, তাদের সুস্থতার কামনায় কেউ মাটির ঘোড়া, আবার কেউ দুধ উৎসর্গ করেন। এই প্রথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে।
মেলাকে কেন্দ্র করে নাগরদোলা, দা-বঁটি, খেলনা এবং মুড়ি-মুড়কি, জিলাপি ও মিষ্টির দোকানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। সব মিলিয়ে সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
তবে এত সবের মাঝেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জায়গার সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা আর পুকুরে পাকা ঘাটের অভাবে ভোগান্তিতে পড়েন দর্শনার্থীরা। মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, মাজারের সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
এই মাজার ও মেলা কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের অগাধ বিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতীক।
আরটিভি/এমএইচজে



