গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহত হলেন ফিলিস্তিনি জাতীয় দলের ফুটবলার মুহান্নাদ আল-লিলি। স্ত্রী ও সদ্যোজাত সন্তানের কাছে যেতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তার আগেই প্রাণ কেড়ে নিলো ইসরায়েলি বিমান হামলা।
প্যালেস্টিনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছে, মুহান্নাদ নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারানো ফুটবল খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৫ জনে। পুরো ক্রীড়া অঙ্গনের মোট নিহতের সংখ্যা ৫৮৫ জন।
গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বেপরোয়া বোমা বর্ষণে প্রাণ গেছে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের। মুহান্নাদের এই মৃত্যু শুধু ফিলিস্তিনি ফুটবলের জন্যই নয়, মানবতার জন্যও এক ভয়াবহ দুঃসংবাদ।
ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সেন্ট্রাল গাজার আল-মাঘাজি শরণার্থী ক্যাম্পে গত সোমবার রাতে হামলা চালানো হয়। ড্রোন থেকে ফেলা একটি মিসাইল মুহান্নাদদের তিন তলার বেডরুমে আঘাত করে। এর ফলে মাথায় মারাত্মক আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয় মুহান্নাদের। মারা যাওয়ার আগে তাকে প্রায় একদিন লড়তে হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মুহান্নাদ আল-লিলি গাজা ছেড়ে স্ত্রীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। যিনি গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলা শুরুর আগে নরওয়েতে চলে যান। সেখানেই তার সন্তানের জন্ম হয়েছে। কিন্তু দেখা হয়নি বাবা মুহান্নাদের সঙ্গে। স্ত্রী-সন্তানের কাছে ছুটে যেতে নিরাপদ সময় ও সুযোগ খুঁজছিলেন তিনি। এখন মুহান্নাদ আল-লিলি আর সেই সুযোগটি পাবেন না।
স্বদেশি ক্লাব খাদামাত আল–মাঘাজির হয়ে মুহান্নাদ ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ২০১৬–১৭ মৌসুমে ক্লাবটির সিনিয়র দলের ফিলিস্তিন প্রিমিয়ার লিগে নেতৃত্ব দেন তিনি। এরপর দলবদল করে শাবাব জাবালিয়াতে যোগ দেন। দুই মৌসুম খেলে ২০১৮/১৯ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে রানার্সআপ হয় তার দল শাবাব জাবালিয়া। পরবর্তীতে গাজা স্পোর্টস ক্লাবে গেলেও আবারও ফিরে আসেন খাদামাত আল–মাঘাজিতে।
আরটিভি/এসকে




