সাকিব আল হাসান, ক্রিকেট হিরো থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ , ০৪:১০ পিএম


সাকিব আল হাসান
ছবি: সংগৃহীত

এক সময় কোটি মানুষের কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের গর্ব ছিলেন সাকিব আল হাসান। জাতীয় দলের অধিনায়ক, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন বহু বার। সেই ক্রিকেট হিরো সাকিব আল হাসান এখন বিতর্কের মুখে। 

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালে সাকিব যোগ দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। নির্বাচনের ফলাফল এবং সরকারের বিরুদ্ধে চলা আন্তর্জাতিক সমালোচনা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর থেকে সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং সম্প্রতি শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েন।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে সাকিব লিখেছিলেন, ‘শুভ জন্মদিন, আপা।’ সেই পোস্টের পরই সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাজিব ভূঁইয়া ঘোষণা দেন সাকিবকে আর বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

একজন মেধাবী ক্রিকেটারের স্বৈরশাসনের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা শেষ করে দিয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাকিব দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি কতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন জনগণের আবেগ থেকে। যাদের জীবনে শেখ হাসিনার শাসন মানে ছিল রাষ্ট্রের দমননীতি, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতীক। তাদের কাছে এই আচরণ ছিল নির্মম উপহাসের মতো। নিজের রাজনৈতিক অন্ধ আনুগত্য ও বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থতার কারণেই সাকিব নিজ হাতে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের কবর খোঁড়েন।

বিজ্ঞাপন

যখন সাকিব আওয়ামী লীগে যোগ দেন, তখন শেখ হাসিনার সরকার আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর সমালোচনার মুখে নির্বাচনে জালিয়াতি, ব্যাপক দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, গোপন কারাগার পরিচালনা এবং বিরোধী দল দমনের অভিযোগে। দেশের অভ্যন্তরেও সবাই জানত, ক্ষমতায় টিকে থাকতে কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তবুও সাকিব সেই দলের সঙ্গেই যুক্ত হন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি এমন এক পক্ষকে বেছে নেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। জাতিসংঘ পর্যন্ত বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সরকারের ভূমিকা ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’-এর পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি উভয় থেকেই তিনি আগে শাস্তি পেয়েছেন। ২০১৯ সালে দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের ফলে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞাও হয়েছিল। এছাড়া ব্যবসা, শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগেও তার নাম জড়িত। 

বর্তমানে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাকিব, তার মা ও আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযোগ অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিং।

আরও পড়ুন

একজন তারকা ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এখন বিতর্কের ছায়ায়।

সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট

আরটিভি/এসকে 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission