বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, ২০২২ সালের নারী বিশ্বকাপ চলাকালে দলের নির্বাচক ও ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা মনজুরুল ইসলাম তার প্রতি যৌন হয়রানি করেছেন। অভিযোগের পর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ক্রিকেট মহলে।
তবে এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন মনজুরুল ইসলাম। বর্তমানে চীনে অবস্থানরত তিনি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সব মিথ্যা। আপনি দলের অন্য মেয়েদের জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।
এরপর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত পোস্টে মনজুরুল লিখেছেন,বৃহস্পতিবার একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম আমার বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এরপর থেকে দেশ-বিদেশের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা থেকে শুরু করে শুভাকাঙ্ক্ষী সবাই আমার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছেন, যোগাযোগ করছেন। এ বিষয়ে আমার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তিনি আরও লিখেছেন, অভিযোগের পর বিসিবি জানিয়েছে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সেই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। বিসিবি ছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়, আমি সেগুলো ফেস করবো এবং আমার বক্তব্য তুলে ধরব। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসবে বলে আশা করছি। সেসময় পর্যন্ত অনুমাননির্ভর কোনো তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সবার কাছে অনুরোধ করছি।
অন্যদিকে, বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহানারার অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার সময় দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের এক সদস্যের মাধ্যমে গণমাধ্যমে উত্থাপিত কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছে।
জাহানারা আলম তার সাক্ষাৎকারে বলেন, উনি (মনজুরুল ইসলাম) একদিন আমার কাছে এসে কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, তোর পিরিয়ডের কতদিন চলছে? পিরিয়ড শেষ হলে বলিস, আমার দিকটাও তো দেখতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচে যখন আমরা লাইনে হ্যান্ডশেক করতাম, তখন তিনি (মনজুরুল) হ্যান্ডশেক না করে জড়িয়ে ধরতেন।
এ ঘটনায় সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, আমাদের দপ্তর থেকেও ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি যদি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান, যেহেতু এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যৌন হয়রানির ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। খেলাধুলার অন্যান্য ক্ষেত্রেও বহুবার শুনেছি। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ এ ধরনের কাজ করে পার না পেয়ে যায়।
আরটিভি/এসকে





