আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির হাতে, আর সে সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেটবিশ্ব।
আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও ক্রিকবাজসহ ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের অবস্থান মেনে নিতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইসিসির সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে।
প্রথম পথ: বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হতে পারে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান ভারতে খেলতে না যাওয়ায় তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হচ্ছে। এমনকি গত বছর নারী বিশ্বকাপেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
দ্বিতীয় পথ: বাংলাদেশকে পয়েন্ট হারাতে হতে পারে এবং ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো ছেড়ে দিতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চারটি দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই পয়েন্ট করে পাবে। ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি। একইভাবে ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড যথাক্রমে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়েকে ওয়াকওভার দিয়েছিল।
তৃতীয় পথ: সবচেয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত হিসেবে বাংলাদেশকে পুরো বিশ্বকাপ থেকেই বাদ দিতে পারে আইসিসি। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অতীতে এমন নজিরও রয়েছে। ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে খেলতে না আসায় অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দিয়ে আয়ারল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘সি’-তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এছাড়া গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে হওয়ার কথা রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এই জটিল পরিস্থিতিতে আইসিসি কোন পথ বেছে নেয়।
আরটিভি/এসকে




