বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে দেশটির ক্রিকেটাঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। তার বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) তাঁকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে এবং দাবী মানা না হলে সব ধরনের খেলা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক নির্বাচিত হন এম নাজমুল ইসলাম। এরপর তিনি বোর্ডের অর্থ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পান। তবে মিডিয়ার সামনে বেশ বেশিবার সরাসরি না আসলেও তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে ফেসবুকে বেফাঁস মন্তব্য করে। তামিমের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু বিষয়ে করা মন্তব্যকে ‘ভারতের দালাল’ বলে সমালোচনা করেন তিনি, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
১৪ জানুয়ারি রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এম নাজমুল বলেন, বিশ্বকাপ না খেললে বিসিবির ক্ষতি হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে কারণ তারা খেললে ম্যাচ ফি পায়। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি এখানে আসে না। এছাড়াও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স না করলে বেতন কাটা হয় না, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কী যুক্তিতে?
তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করি, তারা গিয়ে কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা কোনো বৈশ্বিক কাপ আনতে পারিনি।
নাজমুলের এসব মন্তব্যের পর ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। কোয়াব একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনে তার পদত্যাগের দাবি তুলেছে এবং অবশেষে বিপিএলের ম্যাচ বয়কট পর্যন্ত সংঘটিত হয়। বিসিবি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এম নাজমুলকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে এখনও তিনি পদত্যাগের কোনো ঘোষণা দেননি, ফলে ক্রিকেটাররা তাদের অবস্থান কঠোরভাবে বজায় রেখেছে।
বর্তমানে বিসিবি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পথে হাঁটছে এবং এম নাজমুলের বিতর্কিত বক্তব্যের ব্যাপারে কার্যক্রম চলছে। তবে তার ভবিষ্যত কী হবে তা ক্রিকেটাঙ্গনের নজর কেন্দ্রে রয়েছে।
আরটিভি/এসকে



