ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকায় যেমন ছিল ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বপ্নের ট্রফি ট্যুর

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি। ঢাকার মাটিতে সেদিন ছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চ। ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি আবারও ছুঁয়ে গেল বাংলাদেশের মাটি। কোকা-কোলার সৌজন্যে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি সফরের অংশ হিসেবে আসল ট্রফিটি সেদিন ঢাকায় এসে পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রফিটিকে নিয়ে আসা হয় রাজধানী ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে। টিভির পর্দার ওপারে কিংবা বাড়ির ছাদে পতাকা উড়িয়ে এ দেশের মানুষ যে ট্রফিকে ভালোবেসেছে, তাকে এক পলক কাছ থেকে দেখার তৃষ্ণা মিটল অনেকের।

এবারের ট্রফি সফরের আমেজ ছিল ২০২২ সালের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। গতবার যেখানে ছিল সাধারণ মানুষের এক বিশাল জনজোয়ার, এবার সেখানে দেখা গেছে অনেক বেশি শৃঙ্খলা আর নিয়ন্ত্রিত আয়োজন। এবার ট্রফিটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত না থাকলেও আভিজাত্য আর রোমাঞ্চের কোনো কমতি ছিল না। কোকা–কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের বিজয়ী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাই পেয়েছেন ট্রফির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ। নিরাপত্তার একাধিক ধাপ পেরিয়ে মানুষ ভেতরে ঢুকছিল মোবাইল ফোন হাতে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তোলাই ছিল সবার মূল লক্ষ্য।

আয়োজনে কড়াকড়ি থাকলেও ভক্তদের আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্ধারিত সারিতে দাঁড়িয়ে স্মার্টফোন হাতে সবাই অপেক্ষা করছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের জন্য। কিউআর কোড স্ক্যান করে ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার যে ব্যস্ততা দেখা গেছে, তা বলছিল ফুটবলের প্রতি এ দেশের মানুষের টান কতটা গভীর। মাঠের সেই অনুভূতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিউজফিডজুড়ে তখন ঘুরে ফিরছিল সেই সোনালি ট্রফির ছবি। কেউ শেয়ার করছেন নিজের দেখা মুহূর্ত, কেউ আবার সময় গুনছেন পরের পালার জন্য। সব মিলিয়ে পুরো দেশ যেন এক অদৃশ্য সুতোয় জড়িয়ে গিয়েছিল।

image

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার দৃশ্য সেদিন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল র‌্যাডিসন হোটেলের বলরুমে। সেখানে যেমন ছিল প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার উত্তেজনায় ভরা তরুণদের ভিড়, তেমনি ছিলেন বহু বছর ধরে ফুটবলকে আপন করে নেওয়া প্রবীণ সমর্থকেরাও। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া আর তরুণ ফুটবল তারকা শেখ মোরসালিন যখন ট্রফির পাশে দাঁড়ান, তখন মনে হচ্ছিল দেশের ফুটবলের বর্তমান মুহূর্ত আর বিশ্ব ফুটবলের চূড়ান্ত সাফল্য যেন এক জায়গায় এসে মিলেছে। কূটনীতিক, করপোরেট প্রতিনিধি, কনটেন্ট নির্মাতা, সাংবাদিক আর সাধারণ সমর্থকেরা দাঁড়িয়েছিলেন একই কাতারে। সবার পরিচয় তখন ছিল একটাই, তারা সবাই ফুটবলপ্রেমী।

ট্রফিটির সঙ্গে বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছিলেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য গিলবার্তো সিলভা। ফিফার এই দূতের উপস্থিতি পুরো আয়োজনটিকে দেয় আলাদা একটি মাত্রা। কাঁচের বাক্সে রাখা ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিলভাকে দেখে মনে হচ্ছিল, ইতিহাস যেন হঠাৎ করে খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে দিনের নানা মুহূর্তে সিলভা, ট্রফি আর জামাল ভূঁইয়াদের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ব্যক্তিগত সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ নেয় জাতীয় স্মৃতিতে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই সেই রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল শহরজুড়ে। অফিসপাড়া থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান, সর্বত্র আলোচনার বিষয় ছিল একটাই। সময়টা ছিল সীমিত, কিন্তু দুপুর একটা থেকে শুরু হওয়া সেই প্রদর্শনীর প্রতিটি মুহূর্তই ছিল দামী। এই আয়োজন আবারও মনে করিয়ে দিল, ফিফা আর বাংলাদেশের ফুটবলভক্তদের সম্পর্কটা কতটা পুরোনো আর কতটা গভীর। ভিড়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল ট্রফিটাকে ঘিরে মানুষের অনুভূতি, যা ছড়িয়ে পড়েছিল কথোপকথনে আর ছবির ফ্রেমে।

আরও পড়ুন

রাতেই ট্রফিটি তার পরের গন্তব্যের পথে রওনা দেয়, রেখে যায় এক গভীর ছাপ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডায় হতে যাওয়া সেই টুর্নামেন্টের পথে এই ট্রফি সফর ঘুরবে বিশ্বের ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে ১৫০ সফরদিনের বেশি সময় ধরে। এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশের সময়টা হয়তো অল্প, কিন্তু তার আবেগের জায়গাটা ছিল অনেক বড়।

এই পরিপাটি আয়োজনের এক পাশে ছিল আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আর নিরাপত্তা, আরেক পাশে ছিল বাংলাদেশের মানুষের চেনা ফুটবলপ্রেম। এ দেশে বিশ্বকাপ মানে শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বহু দিনের লালিত এক অনুভূতি। জানুয়ারির সেই বিকেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশ আর ফুটবলের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের মাঝের দূরত্বটা যেন কমে এসেছিল। সেই সোনালি ঝলক আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবল আর বাঙালির আবেগ বহুদিন ধরেই একই সুরে গাঁথা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চিকিৎসার জন্য রাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন নাহিদ রানা
নাহিদ রানাকে নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই আবারও চিকিৎসা দিতে এই পেসারকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাচ্ছে বোর্ড। আজ রাতেই পার্থের উদ্দেশে তার দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা। পার্থের কোস্টাল অর্থোপেডিক হাসপাতালে পিটার দি আলেসান্দ্রোকে দেখাবেন তিনি। নাহিদ রানাকে সশরীর দেখে চিকিৎসক যেভাবে পরামর্শ দেবেন, সেভাবেই হবে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া।  বিসিবি পার্থেই তার ১০ দিনের পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পিটার দি আলেসান্দ্রোর সঙ্গে স্থানীয় একজন ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে চলবে তা। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়েতে সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েন নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের পর খেলতে পারেননি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও। সাইড স্ট্রেইনের চোট থেকে সেরে উঠলেও নতুন করে ব্যথা অনুভব করেন নিতম্বে।  ঢাকায় করানো স্ক্যানে অবশ্য তাঁর গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তারপরও পার্থে গিয়ে প্রথমে কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষাই করাবেন নাহিদ রানা। জিম্বাবুয়ে সিরিজে চোট পাওয়ার পর প্রায় এক মাস ভারী ব্যায়াম করতে পারেননি নাহিদ রানা, করেননি বোলিংও। এরপর অনুশীলনে ফিরে প্রথমে ছোট রানআপে বোলিং শুরু করেন, পরে আস্তে আস্তে রানআপ বড় করেন। এর মধ্যেই ব্যথা অনুভব করেন নিতম্বে। চিকিৎসকদের ধারণা, বোলিংয়ের জন্য যে শক্তি সঞ্চয় করা দরকার ছিল, মাসখানেক বিশ্রামে থাকায় সেটি সঞ্চয় করতে পারেননি নাহিদ রানা। এ কারণেই নিতম্বে ব্যথা অনুভব করছেন। নিতম্বের ব্যথার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজেও নাহিদ রানার না খেলার সম্ভাবনাই বেশি। নভেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে দুটি টেস্টে তাঁকে কীভাবে খেলানো যায়, বিসিবির চাওয়া এখন সেটিই। আরটিভি/এসআর  
চিকিৎসার জন্য রাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন নাহিদ রানা
সাফ মাতাতে বাংলাদেশে আসছেন রোনান সুলিভান
জাতীয় দলের আক্রমণভাগের গোলখরা কাটাতে এবার বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তরুণকে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল স্কোয়াডে রাখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির সহসভাপতি ফাহাদ করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রোনান আজকেই আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, ইনশাআল্লাহ সে আসতে পারবে। আগামী ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ দিন। আমরা তাকে মূল স্কোয়াডেই রাখছি।’ দীর্ঘদিন ধরেই একজন নির্ভরযোগ্য গোলশিকারির অভাব অনুভব করছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। রোনানের অন্তর্ভুক্তি আক্রমণভাগের সেই দুর্বলতা কাটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। গত এপ্রিলে মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অপরাজিত শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল রোনানের। পাকিস্তানের বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিক থেকে গোল করার পাশাপাশি হেডে আরও একটি গোল করেছিলেন তিনি।  এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই টাইব্রেকারেও লক্ষ্যভেদ করেন রোনান। বয়সভিত্তিক দলে এমন পারফরম্যান্সের সুবাদেই এবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় তিনি। উল্লেখ্য, আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না নেপাল। ফলে ছয়টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতা। স্বাগতিক বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে খেলবে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। আরটিভি/ এসআর  
সাফ মাতাতে বাংলাদেশে আসছেন রোনান সুলিভান
মেসির দুই রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে ও হালান্ড
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিওনেল মেসির গড়া দুটি রেকর্ড ভেঙেছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
মেসির দুই রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে ও হালান্ড
কত ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছেন হামজা চৌধুরী?
পোর্টসমাউথের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়ছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ফলে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে শনিবার ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে শেফিল্ড ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
কত ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছেন হামজা চৌধুরী?
বিগ ব্যাশে আবারও দল পেলেন রিশাদ হোসেন
অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) ১৬তম আসরের জন্য বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে দলে ধরে রেখেছে হোবার্ট হারিকেন্স। গত মৌসুমে অভিষেকেই দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পর এবারও হোবার্টের জার্সিতে দেখা যাবে তাকে।
বিগ ব্যাশে আবারও দল পেলেন রিশাদ হোসেন
আরও পড়ুন
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের সব ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব পেল নেটফ্লিক্স
বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা ফিফার, আলোচনায় ট্রাম্প পরিবারের সদস্য
বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, দর্শকদের ভোগ-বিলাসের রেকর্ডও গড়েছে
জানা গেল মেসির শেষ ম্যাচ কবে, কোথায়