বাংলাদেশকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে এমন দাবি তুলে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি শুক্রবার কিংবা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় পাকিস্তান অংশ নিলে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কা। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তান খেললে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা তাদের।
এএফপিকে শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, সব অংশগ্রহণকারী দলের নিরাপত্তায় সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য ব্যবহৃত এলিট কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন থাকবে।
এর আগে ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ইস্যুতে পুরো সময়জুড়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা নীরব থাকলেও এবার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড।
এএফপিকে বোর্ডের সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে বলেন, আঞ্চলিক কোনো বিরোধে জড়াতে চায় না কলম্বো। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার চলমান বিরোধে শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে। তিনি জানান, এই তিন দেশই শ্রীলঙ্কার বন্ধুপ্রতিম এবং ভবিষ্যতে অনুরোধ জানানো হলে যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত থাকবে শ্রীলঙ্কা।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বাদ পড়া, পাকিস্তানের সিদ্ধান্তহীনতা এবং ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেট রাজনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উত্তাপ বাড়ছেই।
আরটিভি/এসকে





