পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে প্রভাব পড়তে পারে

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:২৫ পিএম


পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে প্রভাব পড়তে পারে
ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তান দল বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

বিজ্ঞাপন

আইসিসির মতে, নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বর্জন করে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের অবস্থান প্রতিযোগিতার ভাবমূর্তি ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে।

নিরাপত্তা ইস্যু ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে সফর বাতিল করার পর থেকেই পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ হয়নি। এছাড়া ২০০৮ সালের পর ভারত পাকিস্তানে কোনো ম্যাচ খেলেনি। পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী, আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত থাকলেও এবারও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইসিসির সম্ভাব্য পদক্ষেপ

আইসিসি এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না পেলেও জানিয়েছে, তারা একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ চায়। তবে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পরিস্থিতি জটিল হলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে আইসিসি।

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে, পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের এনওসি বাতিল, এশিয়া কাপ থেকে পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া, আইসিসির রাজস্ব বণ্টনে পিসিবির অংশ স্থগিত।

বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচ বাতিল হলে কমপক্ষে ২০০ কোটি রুপির বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়বে আইসিসি, সম্প্রচার সংস্থা, স্পনসর এবং আয়োজকদের ওপর।

ক্রিকেটাঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে না খেলে, তাহলে আইসিসি কীভাবে আইনি ও আর্থিক দিক সামাল দেবে। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন প্রশ্ন তুলেছেন, ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল হলে পাকিস্তান কী করবে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমল সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানোর প্রতিবাদ হিসেবেই এই কঠোর অবস্থান প্রয়োজন ছিল। তবে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া এই সিদ্ধান্তকে ‘ভণ্ডামি’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন

সব মিলিয়ে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পাকিস্তানকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। এখন ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি তাদের অবস্থান বদলায় কি না, আর আইসিসি এই সংকট কীভাবে সমাধান করে।

সূত্র:  বিবিসি বাংলা
 
আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission