ইংল্যান্ডের একক লড়াই শেষ পর্যন্ত থামিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। হারারের স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ১০০ রানের বড় ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো যুব বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে আয়ুশ মাত্রের নেতৃত্বাধীন ভারত।
৪১২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল ইংল্যান্ড। ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭১ রান তুলে তারা ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায়। তবে হঠাৎ ব্যাটিং ধসে মাত্র দেড় ওভারের মধ্যে ৩ রানেই হারায় ৪ উইকেট। ২০.৩ ওভারে ১৭৪ রানে থাকা দলটি ২২ ওভারে গিয়ে দাঁড়ায় ১৭৭ রানে ৭ উইকেটে।
এরপর একপ্রান্তে লড়ে যান ক্যালেব ফ্যালকনার। অষ্টম উইকেটে জেমস মিন্টুর সঙ্গে ৮০ বলে ৯২ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস দীর্ঘায়িত করেন তিনি। ৬৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ফ্যালকনার ৬৭ বলে ১১৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। তবে সতীর্থদের সহায়তা না পাওয়ায় ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানেই গুটিয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটার হিসেবে ফ্যালকনার আউট হলে ভারতের জয় নিশ্চিত হয়। কনিষ্ক চৌহানের বলে কাট শট খেলতে গিয়ে খিলান প্যাটেলের দারুণ ডাইভিং ক্যাচে বিদায় নেন তিনি।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত গড়ে তোলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৪১১ রান করে ভারত। ব্যাট হাতে ম্যাচের পুরো আলো কেড়ে নেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা। ৫৫ বলে সেঞ্চুরি করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম শতকের রেকর্ডও গড়েন তিনি।
ভারতের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন লামসডেন ৮ ওভারে ৮১ রানে ১ উইকেট। জেমস মিন্টু ৩ উইকেট নিলেও দেন ৬৩ রান।
বোলিংয়ে ভারতের হয়ে আরএস অম্বরিশ ৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন, একটি মেডেন ওভারও করেন তিনি। দুটি করে উইকেট নেন কনিষ্ক চৌহান ও দীপেশ দেবেন্দ্রন।
ফাইনালের সেরা ও টুর্নামেন্টের সেরা দুটি পুরস্কারই জেতেন বৈভব সূর্যবংশী। এবারের আসরে ৬২.৭১ গড়ে ও ১৬৯.৪৯ স্ট্রাইকরেটে তিনি করেন ৪৩৯ রান। সর্বোচ্চ ৪৪৪ রান করেন ইংল্যান্ডের বেন মায়েস। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারত আবারও প্রমাণ করল যুব ক্রিকেটে তাদের আধিপত্য।
আরটিভি/এসকে





