হারের ক্ষোভ খাবারের ওপর কেন ঝাড়লেন রশিদরা 

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:২০ এএম


হারের ক্ষোভ খাবারের ওপর কেনো ঝাড়লেন রশিদরা 
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে টাই, এরপর সুপার ওভারেও টাই শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে হার। এমন নাটকীয় পরাজয় কার্যত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সুপার ওভারে ওঠার সম্ভাবনাই শেষ করে দিয়েছে। লড়াকু ক্রিকেট খেলেও গ্রুপ পর্ব থেকে প্রায় ছিটকে পড়ার হতাশা কীভাবে সামলালেন রশিদরা?

বিজ্ঞাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছে আফগান দল। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বারবার ফিরে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের প্রসঙ্গ। ডাবল সুপার ওভারের শোক কীভাবে কাটাল দল?

হাসতে হাসতেই জবাব দেন অধিনায়ক রশিদ, আমরা আহমেদাবাদে ছিলাম। ম্যানেজারকে বললাম পেশাওয়ারি খাবার অর্ডার করতে ডাল বুখারা, ডাল মাখানি, তন্দুরি চিকেন। যেন রাগটা ওগুলোর ওপর ঝাড়তে পারি!

বিজ্ঞাপন

সমৃদ্ধ, মাখনভরা সেই খাবারের টেবিলেই নাকি নিজেদের বোঝান আফগানরা এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচে কাউকে আলাদা করে দোষারোপ করা যায় না। বরং নিজেদের লড়াই নিয়ে গর্বিত হওয়াই উচিত।

রশিদের স্পষ্ট বার্তা, কেউ যেন না বলে, সে এটা করেছে বা ওটা করেছে। এতে দলে নেতিবাচকতা আসে। কেউ একা হারেনি, দল হেরেছে। সুপার ওভারে যাওয়ার জন্য কোনো খেলোয়াড়কে আমি দোষ দিই না। অধিনায়ক হিসেবে এসব কথা শুনতে চাই না। খেলায় হারার চেয়েও আমাকে বেশি হতাশ করে যখন খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে এই পরাজয় যে সহজে ভোলা যায় না, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হৃদয়ভাঙা হারকে টেনে আনেন উদাহরণ হিসেবে।

সেই ম্যাচে ৫ উইকেটে ২৯১ রান করার পর ৯১ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু গ্লেন মেক্সওয়েল অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরিতে ভেঙে যায় সেই স্বপ্ন। 

বিজ্ঞাপন

রশিদের ভাষায়,ম্যাচটা কয়েকবার আমাদের হাতে ছিল, হঠাৎ ফসকে গেল এটা খুব হতাশাজনক। ওয়াংখেড়ের ম্যাচটা যেমন সহজে ভুলতে পারিনি, ২০২৪ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর ধীরে ধীরে সেটা মাথা থেকে বেরিয়েছিল।

সেই রাতের স্মৃতিও ভাগ করে নেন তিনি। ম্যাচের পর আমরা সবাই ম্যানেজারের রুমে জড়ো হয়েছিলাম। ভালো ডিনার করেছি, ইতিবাচক কথা বলেছি, একে অপরকে সমর্থন করেছি। খেলোয়াড়দের বলেছিলাম এটাই একসঙ্গে থাকার সময়। আমরা যদি নিজেরাই ভেঙে পড়ি, তাহলে এক-দুই বছর পিছিয়ে যাব।

এবারের সমীকরণ অবশ্য কঠিন। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর আফগানিস্তানকে জিততেই হবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডার বিপক্ষে। পাশাপাশি চাইবে অন্য ম্যাচে বড় অঘটন। তাতেও শেষ ভরসা থাকবে নেট রান রেটে। অর্থাৎ বড় চমক না ঘটলে ২০২৪ সালের সেমিফাইনালিস্টদের এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে।

আরও পড়ুন

তবু আশাবাদ হারাচ্ছেন না রশিদ। গত এক-দেড় বছরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। সব সময় ফল পক্ষে যাবে না। মানুষ ১০০ বার সাফল্যের চেয়ে একবারের ব্যর্থতাই বেশি আলোচনা করে এটাই চ্যালেঞ্জিং। মান ধরে রাখা কঠিন, কিন্তু মজারও। দক্ষতা আসে অনুশীলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় এক সাংবাদিক মজা করে তাকে লাজপত নগরে ঘুরে আসার পরামর্শ দেন, যেখানে বড় আফগান সম্প্রদায় রয়েছে। জবাবে রশিদের হাস্যরস, আগে যেতাম, যখন আমরা এত বিখ্যাত ছিলাম না। এখন একটু কঠিন।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission