২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলছে, বিশ্বকাপের যুক্তরাষ্ট্র পর্ব ফুটবলার, সমর্থক, সাংবাদিক, কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দা সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সোমবার(৩০ মার্চ) প্রকাশিত ৩৬ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, কড়া অভিবাসন নীতি, নিরাপত্তা অভিযান এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বিশ্বকাপ আয়োজনকে জটিল করে তুলতে পারে। সংস্থাটির আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে বিতাড়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নতুন অভিবাসন নীতিও আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্ট (আইসিই) অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনেসোটায় আইসিই’র গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অ্যামনেস্টির আশঙ্কা, বিশ্বকাপ চলাকালেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহর, স্টেডিয়াম, পর্যটনকেন্দ্র যে কোনো স্থানেই আইসিই অভিযান চালাতে পারে এবং তাদের হাতে গ্রেপ্তারের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। এতে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া দর্শক, সংবাদকর্মী এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিব্রতকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা স্টিভ ককবার্ন বলেন, এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে একাধিক ঝুঁকির বিষয় সামনে এসেছে। আট বছর আগে নিরাপদ ও সবার জন্য অংশগ্রহণযোগ্য বিশ্বকাপ আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই ব্যত্যয় ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, এখন শুধু বিদেশি দর্শকরাই নন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।
বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসন পুলিশের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, ফিফাকে নিশ্চিত করতে হবে যেন স্টেডিয়ামের আশপাশে অভিবাসন পুলিশের উপস্থিতি না থাকে।
এ ছাড়া সেনেগাল, হাইতি এবং ইরানের দর্শকদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করছে সহ-আয়োজক দেশগুলোও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকোতে অতিরিক্ত এক লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে কানাডার বড় শহরগুলো থেকে গৃহহীন মানুষদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, কেবল নিরাপত্তা নয়, দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টিও আয়োজকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আরটিভি/এসকে



