দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে ঘটেছে চরম অস্বাভাবিক এক ঘটনা। ওয়ানডে কাপের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীনই মাঠ ছেড়ে ইংল্যান্ডগামী ফ্লাইট ধরতে চলে যান অলরাউন্ডার বেয়ার্স সোয়ানেপোয়েল, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
রোববার (২৯ মার্চ) লায়ন্স ও টাইটান্সের মধ্যকার ওয়ানডে কাপের ফাইনালে লায়ন্সের হয়ে খেলছিলেন সোয়ানেপোয়েল। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩তম ওভারের দিকে হঠাৎ করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে জানা যায়, তিনি জোহানেসবার্গের ও.আর. ট্যাম্বো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ইংল্যান্ডগামী ফ্লাইট ধরতে রওনা হয়েছিলেন।
ম্যাচে নিজের বোলিং কোটা শেষ করে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন সোয়ানেপোয়েল। তবে তার হঠাৎ প্রস্থানে বড় বিপাকে পড়ে লায়ন্স। অস্বাভাবিক এই পরিস্থিতিতে আম্পায়াররা বদলি ফিল্ডার নামানোর অনুমতি না দেওয়ায় এক পর্যায়ে একজন কম নিয়ে ফিল্ডিং করতে হয় দলটিকে।
শেষ পর্যন্ত ২৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে টাইটান্স ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নেয়, হাতে ছিল মাত্র ১ বল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোয়ানেপোয়েলের সতীর্থরাও জানতেন না তিনি বিমান ধরতে যাচ্ছেন। তারা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো চোট পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ চলাকালীন আম্পায়ারদের সঙ্গে কয়েক দফা তর্ক-বিতর্কও হয়।
তবে লায়ন্সের কোচিং স্টাফ ম্যাচের দিন সকালে তার ফ্লাইটের বিষয়টি জানতেন। যদিও তারা ধারণা করেছিলেন, সোয়ানেপোয়েল সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাঠ ছাড়বেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই মাঠ ত্যাগ করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও খেলেন সোয়ানেপোয়েল। তিনি বর্তমানে উরস্টারশায়ার কাউন্টির সঙ্গে যুক্ত। কাউন্টি ক্রিকেটে যোগ দিতেই তিনি ফ্লাইট ধরেন বলে জানা গেছে। তবে আগে থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে দলকে না জানানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লায়ন্স কর্তৃপক্ষ। দলের চিফ এক্সিকিউটিভ জোনো লিফ-রাইট বলেছেন, বেয়ার্সের এই আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ। এটি আমাদের দলীয় মূল্যবোধ ও খেলার সংস্কৃতির পরিপন্থী। সমর্থকরাও এতে হতাশ হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর সোয়ানেপোয়েলের চুক্তি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা। সংস্থাটির ঘরোয়া ক্রিকেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এডি খোজা জানিয়েছেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। বেয়ার্স বোর্ডের নিয়ম ভেঙেছেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়বে। এরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফাইনাল ম্যাচের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন ক্রিকেটারের এমন আচরণ দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে বিরল এবং তা নিয়ে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
আরটিভি/এসকে



