এবারের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশের জন্য শিরোপা ধরে রাখার মিশন। যেখানে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শিরোপার লড়াইয়ে আজ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপে রাত ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এর আগে গ্রুপ পর্বে দুই দলের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তবে ফাইনালে ড্রয়ের সুযোগ নেই—নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে দেশে ফিরতে চায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দলের কোচ মার্ক কক্স শুরুতেই খানিকটা রসিকতা করে বলেন, আমার ৮৬ বছর বয়সী মা ফোন করে বলেছেন, এই বয়সে যেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার মতো দুষ্টুমি না করি! জীবন মানেই তো প্রাণবন্ত থাকা।
এরপরই প্রতিপক্ষ ভারতকে সমীহ করে তিনি বলেন, আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তারা দারুণ খেলছে, তাদের কোচিং স্টাফও চমৎকার। তবে আমাদের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফও সমানভাবে প্রস্তুত। ভারত বড় দল—আমরাও কম নই।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথের ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন এই কোচ। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা—এই ম্যাচগুলোতে সবসময়ই আলাদা উত্তেজনা থাকে। যেমন আমার দেশে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। কাছের প্রতিপক্ষকে হারানোর তাড়না সবসময়ই বেশি থাকে।
খেলোয়াড়দের আলাদা করে অনুপ্রাণিত করার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন কক্স। তিনি বলেন, এ ধরনের ম্যাচের জন্য নতুন করে অনুপ্রেরণা লাগে না। সকালে উঠে মালদ্বীপের আকাশ, সমুদ্র আর পরিবেশ দেখাই যথেষ্ট। এই বয়সে যদি খেলোয়াড়দের মধ্যে অনুপ্রেরণা না আসে, তাহলে আর কিছু বলার থাকে না।
ম্যাচটা নির্ধারিত সময়েই জয়ের লক্ষ্য তার, একজন ইংরেজ হিসেবে পেনাল্টি শুটআউট থেকে দূরে থাকাই ভালো! ১৯৯০ বিশ্বকাপ, ১৯৯৬ ইউরো বা ১৯৯৮ বিশ্বকাপ—সবখানেই ইংল্যান্ড পেনাল্টিতে হেরেছে। তাই আমরা চাই ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করতে।
অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, আগের এক ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিলাম। তাই তাদের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই আমাদের ভেতরে আলাদা কিছু কাজ করে। আমরা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। মাঠে নামলে সবাই সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ইনশাআল্লাহ, এবারও সেটাই করব—আশা করি ভালো কিছু হবে।
আরটিভি/এসআর



