আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় এক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা স্ট্রাইকার রিচার্লিসন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে সুযোগ পেলে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। মাঠের বাইরে চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিচার্লিসন বলেন, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় মাঠের বাইরের নানা বিষয় তার মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। পরিবার, ব্যক্তিগত সমস্যা এবং জনমতের চাপ তাকে মানসিকভাবে বিচলিত করে তোলে।
তার ভাষায়, ফুটবলের বাইরের অনেক বিষয় আমাকে সামলাতে হয়েছিল। এমন কিছু ব্যাপার ছিল, যা আমার মনোযোগে প্রভাব ফেলেছিল।
ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল তার জন্য বড় ধরনের বিভ্রান্তির কারণ। এ বিষয়ে সতীর্থ কাসেমিরোর পরামর্শকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রিচার্লিসন বলেন, ক্যাসেমিরো ঠিকই বলেছিল। যদি পরের বিশ্বকাপে খেলি, তাহলে ফোন সঙ্গে নেব না।
২০২২ বিশ্বকাপে সার্বিয়ার বিপক্ষে তার করা দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক গোলটি টুর্নামেন্টের সেরা গোল নির্বাচিত হয়েছিল। সেই গোল বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ালেও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় কোয়ার্টার ফাইনালেই। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয় সেলেসাওদের।
পরে রিচার্লিসন জানান, ওই ম্যাচে তিনি উরুর চোট নিয়েই খেলেছিলেন এবং ৮৫ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের বাড়তি নজর ও সমালোচনাও তার ওপর প্রভাব ফেলেছিল।
ক্লাব ফুটবলে চলতি মৌসুমে টটেনহ্যামের হয়ে ৩৭ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে গত মার্চে ব্রাজিল জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে জায়গা হয়নি তার। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন গত ১৪ অক্টোবর।
বিশ্লেষকদের মতে, রিচার্লিসনের এই সিদ্ধান্ত মানসিক ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নিজেকে শতভাগ মনোযোগী রাখতে এবং পুরোনো ছন্দে ফিরতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এটি তার জন্য নতুন করে নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
আরটিভি/এমএইচজে



