২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র ২ মাস বাকি। এর মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিন আর্জেন্টাইন ভক্ত। লিওনেল মেসি ও প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে ১৭ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন তারা।
২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট আর্জেন্টিনার গুয়ালেগুয়াইচু শহর থেকে যাত্রা শুরু করেন ভিসেন্তে কনকুলিনি, মিগুয়েল সিলিও এবং ইয়ামান্দু মার্তিনেজ এই তিন বন্ধু। প্রায় ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই ভ্রমণের বড় অংশ ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন তারা।
বর্তমানে তারা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তারা গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, পানামা, ইকুয়েডর, পেরু ও ব্রাজিলসহ একাধিক দেশ অতিক্রম করেছেন।
তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি, যেখানে আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে গ্যালারিতে বসে মেসিদের সমর্থন জানানোই এই দুঃসাহসিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। তবে ভিসেন্তে কনকুলিনির ভাষায়, শুধুমাত্র খেলা দেখা নয় এই দীর্ঘ যাত্রাটিই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
এই ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তারা শুধু হাজার হাজার কিলোমিটার পথই পাড়ি দিচ্ছেন না, বরং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন এবং ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছেন।
প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে ধরে একটি প্রাথমিক রুট পরিকল্পনা থাকলেও পথে নানা বাস্তবতা, স্থানীয়দের পরামর্শ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে সেই পথ বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে তাদের।
তিন বন্ধুর এই ব্যতিক্রমী যাত্রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তারা নিজেদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়মিত শেয়ার করছেন, যা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রায় ১৪ হাজার অনুসারী যুক্ত হয়েছেন, যারা প্রতিদিন তাদের এই রোমাঞ্চকর যাত্রার আপডেট অনুসরণ করছেন।
একটি ভিডিও বার্তায় তারা মেসির উদ্দেশে জানান, নিকারাগুয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত এই দীর্ঘ যাত্রা তারা করছেন শুধু তার খেলা দেখার জন্যই নয়, বরং তার সঙ্গে এক কাপ ঐতিহ্যবাহী আর্জেন্টাইন পানীয় ‘মাতে’ ভাগ করে নেয়ার স্বপ্ন নিয়েও। সব মিলিয়ে, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে, তারই এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন এই তিন আর্জেন্টাইন বন্ধু।
আরটিভি/এসআর



