যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছিল ইরান। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি তিনি আবারও বলেছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ইরান দল অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে যাবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সম্প্রচারক সংস্থা সিএনবিসি আয়োজিত অর্থনৈতিক সম্মেলনেও এই কথা বলেছেন ইনফান্তিনো।
তিনি বলেন, ইরান অবশ্যই (বিশ্বকাপে) আসবে। আমরা আশা করি, তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, তাতে সবার জন্যই ভালো হবে।
ইরানের বিশ্বকাপ খেলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ইনফান্তিনো বলেন, ইরানকে আসতেই হবে। তারা তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, খেলোয়াড়েরাও খেলতে চায়। খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। যদি অন্য কেউ সেতুবন্ধ তৈরি ও তা ধরে রাখার বিশ্বাস না রাখে, তবে আমরা সেই দায়িত্বটাই পালন করব।
প্রসঙ্গত, ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির ওপর হামলা চালানোর পর। ইরান শুরুতে টুর্নামেন্টটি ‘বয়কট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এমন অনিশ্চয়তার মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার ইঙ্গিত দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।
তিনি বলেছিলেন, ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে সেখানে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি সত্যিই মনে করি না।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে ওঠে। এরপরই ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান। যদিও ফিফা সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই ইরানের খেলার নিশ্চয়তা দেয়। এই অবস্থান এখনও ধরে রেখেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তারা খেলবে ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে।
আরটিভি/এসআর



