ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ১০টি অঘটন

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ , ০৭:৫৩ পিএম


ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ১০টি অঘটন
কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হার বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটন। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় দ্য গ্রটেস্ট শো অন আর্থ। ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এই মহাযজ্ঞ ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে নতুন ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের টুর্নামেন্টে কে সবচেয়ে বেশি গোল করবে, কে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে সেরা পারফর্ম করবে, আর কে জিতবে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি–তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বিশ্ববাসী।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে রয়েছে বহু চমকপ্রদ অঘটন, যেখানে মহাপরাক্রমশালী প্রতিপক্ষ ঘায়েল হয়েছে দুর্বলের কাছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়  নেয়ার ঘটনা তো অহরহ ঘটে। বিশ্বকাপে অঘটনের শিকার হয়েও আছে শিরোপা জেতার দৃষ্টান্ত। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনা হার বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছিল, আবার তারাই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করে।

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ ইতিহাসের কিছু বড় অঘটন...

30

যুক্তরাষ্ট্র ১-০ ইংল্যান্ড (১৯৫০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইংল্যান্ড ছিল সে সময়ের সবচেয়ে পরাক্রমশালী দল। দলে তখন খেলছেন আলফ রামসি, টম ফিনি এবং বিলি রাইটের মতো তারকারা। এটি ছিল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম অংশগ্রহণ এবং শিরোপা জয়ের অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছিল তাদের।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দলটি ছিল মূলত শখের বশে খেলা অপেশাদার ফুটবলারদের নিয়ে গড়া, যে দলে ছিলেন একজন ডিশওয়াশার, একজন ডাকপিওন এবং শিক্ষক। এই মিশ্র দলটি মাত্র একদিন একসাথে অনুশীলন করে নৌকায় চড়ে ব্রাজিলে পৌঁছায়।

মাঠের খেলায় তাই ইংল্যান্ডের কাছে যুক্তরাষ্ট্র পাত্তা পবে না বলেই ধরে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু জো গায়েটজেন্স ৩৮তম মিনিটে হেডে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায়, কিন্তু মার্কিন গোলরক্ষক ফ্র্যাঙ্ক বোরগি অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন এবং দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন। অঘটনের শিকার হয় ফেবারিট ইংল্যান্ড।

40

পশ্চিম জার্মানি ৩-২হাঙ্গেরি (১৯৫৪ )

ফেরেঙ্ক পুসকাসের নেতৃত্বাধীন সেই হাঙ্গেরি দল ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরা জাতীয় দল হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে 'মাইটি ম্যাজিয়ার্স' খ্যাত সেই দলটির মুখোমুখি হয় তুলনামূলক দুর্বল পশ্চিম জার্মানি।

হাঙ্গেরি সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে নেমেছিল এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এবং পশ্চিম জার্মানিকেও আগের এক ম্যাচে ৮-৩ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছিল।

ফাইনালে দুই দল আবার মুখোমুখি হয়। হাঙ্গেরি প্রথমার্ধে দুই গোল করে এগিয়ে যায় এবং মনে হচ্ছিল সহজ জয় পেতে যাচ্ছে তারা। কিন্তু জার্মানি অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসে এবং সমতা আনে। ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে হেলমুট রাহন তার দ্বিতীয় গোল করে হাঙ্গেরিয়ানদের হৃদয় ভেঙে দেন। প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় পশ্চিম জার্মানি, যারা গ্রুপ পর্বে হাঙ্গেরির কাছে রীতিমতো উড়ে গিয়েছিল।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই প্রত্যাবর্তন মিরাকল অব বার্ন নামে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

উত্তর কোরিয়া ১-০ ইতালি (১৯৬৬)

উত্তর কোরিয়ার ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই ছিল অনেকের কাছে বিস্ময়কর একটি ঘটনা। শীতল যুদ্ধের সময়ে পশ্চিমা-সমর্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান থাকায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড শুরুতে তাদের ভিসা বাতিল করার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল।

ম্যাচে ইতালির মাঝমাঠ মূলত জিয়াকোমো বুলগারেল্লির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ম্যাচ চলাকালীন তিনি চোট পান, আর তখনকার নিয়ম অনুযায়ী কোনো পরিবর্তিত খেলোয়াড় আনা যেত না, ফলে ইতালি ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

এর সাত মিনিট পর পাক দু-ইক গোল করে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে দেন। এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত এশীয় দলটিকে জয় এনে দেয়। পুঁচকে উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরে তৎকালীন দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

এই ম্যাচকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে ধরা হয়। এমনকি ম্যাচের মূল টিকিট এখন ফিফা ফুটবল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। গোলটি যেখানে করা হয়েছিল, সেই জায়গাটি পরে স্টেডিয়াম ভেঙে আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করার পর লোহার চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

50

আলজেরিয়া ২-১ পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২)

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানি অংশ নিয়েছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়ে। সে সময় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেই আসরেরও অন্যতম ফেবারিট ছিল। তাদের দলে ছিলেন হানসি মুলার, উলফগ্যাং ড্রেমলার, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে এবং লোথার ম্যাথেউসের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা।

অন্যদিকে আলজেরিয়া ছিল তুলনামূলক অখ্যাত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দল, তবে বিশ্বকাপের আগে তারা ভালো ফর্মে ছিল। সেদিন জার্মানদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই তাদের বিপদ ডেকে আনে। রাবাহ মাদজার ৫৪তম মিনিটে গোল করে প্রথম ধাক্কা দেন।

রুমেনিগের সমতা আনার পরও, লখদার বেল্লুমি এমন একটি গোল করেন যা পশ্চিম জার্মানি ও পুরো বিশ্বকে চমকে দেয়।

ক্যামেরুন ১-০ আর্জেন্টিনা (১৯৯০)

আর্জেন্টিনা তার আগের আসরেই দিয়েগো ম্যারাডোনার অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই আসরেও দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ম্যারাডোনা এবং তাদেরকে আবারও ফেবারিট মনে করা হচ্ছিল। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনের সেটিই ছিল বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ, তাই আর্জেন্টিনা সহজ জয় পাবে বলেই আশা করা হচ্ছিল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বখ্যাত সান সিরো স্টেডিয়ামে।

আর্জেন্টিনা শুরুতে আধিপত্য দেখালেও ধীরে ধীরে ক্যামেরুন আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং রক্ষণভাগ শক্ত করে তোলে।

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িক একটি ফ্রি-কিকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচজয় নিশ্চিত করে। অঘটনের শিকার হলেও সেই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের।

60

ফ্রান্স ০-১ সেনেগাল (২০০২)

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেই বিশ্বকাপে এসেছিল ইউরো জিতে। অন্যদিকে ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ সেনেগালের সেটি ছিল বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ। সেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় এই দুই দল।

২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন সব উপাদান ছিল যা ম্যাচটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তোলে। কিন্তু বিশ্লেষক ও ফ্রান্স দল যে বিষয়টি অনুমান করতে পারেনি, তা হলো সেনেগালের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ, যা ফরাসি আক্রমণকে পুরোপুরি নখদন্তহীন করে ফেলে।

এর সঙ্গে যোগ হয় এল হাজ্জি দিয়ুফের গতিময় খেলা এবং পাপা বুবা দিয়োপের ৩০তম মিনিটের গোল। ফলে সেনেগাল ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলে নেয়।

আর ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আরও একটি হার ও ড্রয়ের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। অন্যদিকে সেনেগাল ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয় আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়।

70

ব্রাজিল ১-৭ জার্মানি (২০১৪)

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল ব্রাজিলের জন্য একটি স্বপ্নপূরণের মঞ্চ, ১৯৫০ সালের ঘরের মাঠে উরুগুয়ের কাছে বিশ্বকাপ খোয়ানোর ক্ষত মোছার সুযোগ। পুরো ব্রাজিল তখন অপেক্ষায় নিজেদের মাটিতে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপনের। আর লক্ষ্য থেকে আর মাত্র দুই ধাপ দূরেই ছিল তারা। অন্তত ব্রাজিলিয়ানদের বিশ্বাস তাই ছিল।

সেমিফাইনালে ব্রাজিল প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় জার্মানিকে, যাদের হারিয়েই তারা শেষবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। উভয় দলই গ্রুপ শীর্ষে থেকে এবং নকআউটে কঠিন লড়াই পেরিয়ে এই পর্যায়ে এসেছিল।

কিন্তু এই ম্যাচের আগে ব্রাজিল বড় ধাক্কা খায় তারকা নেইমার জুনিয়র চোটের কারণে এবং অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাও কার্ডের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন।

ম্যাচের ১১তম মিনিটেই জার্মানি গোল করে এবং এরপর আর থেমে থাকেনি। ২৩ থেকে ২৯ মিনিটের মধ্যে তারা আরও চারটি গোল করে ব্রাজিলিয়ানদের সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেয়। মাঠ, গ্যালারি এমনকি পুরো দেশ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধেও পরিস্থিতি বদলায়নি; জার্মানি আরও দুই গোল করে এবং ব্রাজিল শেষ মুহূর্তে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করে।

৭-১; ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলোর একটি, যা 'মিনেইরাজো ট্রাজেডি' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক গভীর ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।

জার্মানি পরে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে।

80

নেদারল্যান্ডস ৫-১ স্পেন (২০১৪)

২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ বি'র উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় আগের বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। স্পেন তখন ডিফেন্ডিং ইউরোপিয়ান ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।


জাবি আলোনসো ২৭তম মিনিটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। শুরুতে মনে হচ্ছিল সবকিছুই তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আসে সেই মুহূর্ত, যা পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

রবিন ফন পার্সি ১৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক উড়ন্ত হেডে গোল করেন, যা গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসসহ পুরো স্প্যানিশ ডিফেন্সকে হতবাক করে দেয়।

এরপর নেদারল্যান্ডস আরও চারটি গোল করে স্পেনকে বিধ্বস্ত করে। এটি ছিল বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অন্যতম বড় পরাজয়।

স্পেন পরবর্তীতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, আর নেদারল্যান্ডস টুর্নামেন্ট শেষ করে তৃতীয় হয়ে।

90

দক্ষিণ কোরিয়া ২-০ জার্মানি (২০১৮)

বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনেক বড় অঘটনই হয়েছে যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছে, ২০১৮ আসরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। এটি ছিল টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয়।

জার্মানি শেষ গ্রুপ ম্যাচে জিততেই মাঠে নেমেছিল, কারণ নকআউটে যেতে তাদের জয় প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় বাদ পড়ে গিয়েছিল এবং খেলছিল শুধুই সম্মানের জন্য।

ম্যাচটি দীর্ঘ সময় গোলশূন্য অবস্থায় ছিল, ফলে জার্মানি জয়ের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলে আক্রমণ চালায়। আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনজুরি টাইমের দুই মিনিটে কিম ইয়ং-গওন কর্নার থেকে গোল করে কোরিয়াকে এগিয়ে দেন।

এরপর জার্মান গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার আক্রমণে উঠে গেলে ভুল পাসের সুযোগে দক্ষিণ কোরিয়া বল পেয়ে খালি পোস্টে আরও একটি গোল করে দেয়। এতেই জার্মানির বিদায় নিশ্চিত হয়। ১৯৩৮ সালের পর এই প্রথমবার জার্মানি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়, এবং বিশ্বকাপে কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে এটিই তাদের প্রথম হার।

সৌদি আরব ২-১ আর্জেন্টিনা (২০২২)

আর্জেন্টিনা কাতার বিশ্বকাপে এসেছিল টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ছিল তারা।

ম্যাচের দশম মিনিটে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। অফসাইডের কারণে আলবিসেলেস্তেদের আরও কয়েকটি গোল বাতিল হলেও মনে হচ্ছিল ব্যবধান বাড়ানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পুরো চিত্র পাল্টে যায়।

৪৮তম মিনিটে সালেহ আল-শেহরি লং বল থেকে দারুণ শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

এর পাঁচ মিনিট পর সালেম আল-দাওসারি বাঁ দিক থেকে কাট করে অসাধারণ এক শটে বল জালে পাঠিয়ে সৌদি আরবকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব আর্জেন্টিনার প্রবল আক্রমণের চাপ সামলে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দেয়।

তবে, সেই হারের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্ট জিতে নেয়, আর সৌদি আরব গ্রুপ পর্বে বিদায় নিলেও এই জয় বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের স্মরণীয় করে রেখেছে। 

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission