ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ১০টি অঘটন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হার বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটন। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় দ্য গ্রটেস্ট শো অন আর্থ। ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এই মহাযজ্ঞ ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে নতুন ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের টুর্নামেন্টে কে সবচেয়ে বেশি গোল করবে, কে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে সেরা পারফর্ম করবে, আর কে জিতবে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি–তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বিশ্ববাসী।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে রয়েছে বহু চমকপ্রদ অঘটন, যেখানে মহাপরাক্রমশালী প্রতিপক্ষ ঘায়েল হয়েছে দুর্বলের কাছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার ঘটনা তো অহরহ ঘটে। বিশ্বকাপে অঘটনের শিকার হয়েও আছে শিরোপা জেতার দৃষ্টান্ত। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনা হার বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছিল, আবার তারাই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করে।

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপ ইতিহাসের কিছু বড় অঘটন...

30

যুক্তরাষ্ট্র ১-০ ইংল্যান্ড (১৯৫০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইংল্যান্ড ছিল সে সময়ের সবচেয়ে পরাক্রমশালী দল। দলে তখন খেলছেন আলফ রামসি, টম ফিনি এবং বিলি রাইটের মতো তারকারা। এটি ছিল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম অংশগ্রহণ এবং শিরোপা জয়ের অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছিল তাদের।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দলটি ছিল মূলত শখের বশে খেলা অপেশাদার ফুটবলারদের নিয়ে গড়া, যে দলে ছিলেন একজন ডিশওয়াশার, একজন ডাকপিওন এবং শিক্ষক। এই মিশ্র দলটি মাত্র একদিন একসাথে অনুশীলন করে নৌকায় চড়ে ব্রাজিলে পৌঁছায়।

মাঠের খেলায় তাই ইংল্যান্ডের কাছে যুক্তরাষ্ট্র পাত্তা পবে না বলেই ধরে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু জো গায়েটজেন্স ৩৮তম মিনিটে হেডে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায়, কিন্তু মার্কিন গোলরক্ষক ফ্র্যাঙ্ক বোরগি অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন এবং দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন। অঘটনের শিকার হয় ফেবারিট ইংল্যান্ড।

40

পশ্চিম জার্মানি ৩-২হাঙ্গেরি (১৯৫৪ )

ফেরেঙ্ক পুসকাসের নেতৃত্বাধীন সেই হাঙ্গেরি দল ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরা জাতীয় দল হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে 'মাইটি ম্যাজিয়ার্স' খ্যাত সেই দলটির মুখোমুখি হয় তুলনামূলক দুর্বল পশ্চিম জার্মানি।

হাঙ্গেরি সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে নেমেছিল এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এবং পশ্চিম জার্মানিকেও আগের এক ম্যাচে ৮-৩ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছিল।

ফাইনালে দুই দল আবার মুখোমুখি হয়। হাঙ্গেরি প্রথমার্ধে দুই গোল করে এগিয়ে যায় এবং মনে হচ্ছিল সহজ জয় পেতে যাচ্ছে তারা। কিন্তু জার্মানি অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসে এবং সমতা আনে। ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে হেলমুট রাহন তার দ্বিতীয় গোল করে হাঙ্গেরিয়ানদের হৃদয় ভেঙে দেন। প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় পশ্চিম জার্মানি, যারা গ্রুপ পর্বে হাঙ্গেরির কাছে রীতিমতো উড়ে গিয়েছিল।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই প্রত্যাবর্তন মিরাকল অব বার্ন নামে ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

উত্তর কোরিয়া ১-০ ইতালি (১৯৬৬)

উত্তর কোরিয়ার ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই ছিল অনেকের কাছে বিস্ময়কর একটি ঘটনা। শীতল যুদ্ধের সময়ে পশ্চিমা-সমর্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান থাকায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড শুরুতে তাদের ভিসা বাতিল করার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল।

ম্যাচে ইতালির মাঝমাঠ মূলত জিয়াকোমো বুলগারেল্লির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ম্যাচ চলাকালীন তিনি চোট পান, আর তখনকার নিয়ম অনুযায়ী কোনো পরিবর্তিত খেলোয়াড় আনা যেত না, ফলে ইতালি ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

এর সাত মিনিট পর পাক দু-ইক গোল করে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে দেন। এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত এশীয় দলটিকে জয় এনে দেয়। পুঁচকে উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরে তৎকালীন দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

এই ম্যাচকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে ধরা হয়। এমনকি ম্যাচের মূল টিকিট এখন ফিফা ফুটবল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। গোলটি যেখানে করা হয়েছিল, সেই জায়গাটি পরে স্টেডিয়াম ভেঙে আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করার পর লোহার চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

50

আলজেরিয়া ২-১ পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২)

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানি অংশ নিয়েছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়ে। সে সময় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেই আসরেরও অন্যতম ফেবারিট ছিল। তাদের দলে ছিলেন হানসি মুলার, উলফগ্যাং ড্রেমলার, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে এবং লোথার ম্যাথেউসের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা।

অন্যদিকে আলজেরিয়া ছিল তুলনামূলক অখ্যাত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দল, তবে বিশ্বকাপের আগে তারা ভালো ফর্মে ছিল। সেদিন জার্মানদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই তাদের বিপদ ডেকে আনে। রাবাহ মাদজার ৫৪তম মিনিটে গোল করে প্রথম ধাক্কা দেন।

রুমেনিগের সমতা আনার পরও, লখদার বেল্লুমি এমন একটি গোল করেন যা পশ্চিম জার্মানি ও পুরো বিশ্বকে চমকে দেয়।

ক্যামেরুন ১-০ আর্জেন্টিনা (১৯৯০)

আর্জেন্টিনা তার আগের আসরেই দিয়েগো ম্যারাডোনার অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই আসরেও দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ম্যারাডোনা এবং তাদেরকে আবারও ফেবারিট মনে করা হচ্ছিল। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনের সেটিই ছিল বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ, তাই আর্জেন্টিনা সহজ জয় পাবে বলেই আশা করা হচ্ছিল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বখ্যাত সান সিরো স্টেডিয়ামে।

আর্জেন্টিনা শুরুতে আধিপত্য দেখালেও ধীরে ধীরে ক্যামেরুন আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং রক্ষণভাগ শক্ত করে তোলে।

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িক একটি ফ্রি-কিকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচজয় নিশ্চিত করে। অঘটনের শিকার হলেও সেই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের।

60

ফ্রান্স ০-১ সেনেগাল (২০০২)

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেই বিশ্বকাপে এসেছিল ইউরো জিতে। অন্যদিকে ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ সেনেগালের সেটি ছিল বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ। সেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় এই দুই দল।

২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন সব উপাদান ছিল যা ম্যাচটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তোলে। কিন্তু বিশ্লেষক ও ফ্রান্স দল যে বিষয়টি অনুমান করতে পারেনি, তা হলো সেনেগালের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ, যা ফরাসি আক্রমণকে পুরোপুরি নখদন্তহীন করে ফেলে।

এর সঙ্গে যোগ হয় এল হাজ্জি দিয়ুফের গতিময় খেলা এবং পাপা বুবা দিয়োপের ৩০তম মিনিটের গোল। ফলে সেনেগাল ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলে নেয়।

আর ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আরও একটি হার ও ড্রয়ের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। অন্যদিকে সেনেগাল ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয় আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়।

70

ব্রাজিল ১-৭ জার্মানি (২০১৪)

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল ব্রাজিলের জন্য একটি স্বপ্নপূরণের মঞ্চ, ১৯৫০ সালের ঘরের মাঠে উরুগুয়ের কাছে বিশ্বকাপ খোয়ানোর ক্ষত মোছার সুযোগ। পুরো ব্রাজিল তখন অপেক্ষায় নিজেদের মাটিতে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপনের। আর লক্ষ্য থেকে আর মাত্র দুই ধাপ দূরেই ছিল তারা। অন্তত ব্রাজিলিয়ানদের বিশ্বাস তাই ছিল।

সেমিফাইনালে ব্রাজিল প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় জার্মানিকে, যাদের হারিয়েই তারা শেষবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। উভয় দলই গ্রুপ শীর্ষে থেকে এবং নকআউটে কঠিন লড়াই পেরিয়ে এই পর্যায়ে এসেছিল।

কিন্তু এই ম্যাচের আগে ব্রাজিল বড় ধাক্কা খায় তারকা নেইমার জুনিয়র চোটের কারণে এবং অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাও কার্ডের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন।

ম্যাচের ১১তম মিনিটেই জার্মানি গোল করে এবং এরপর আর থেমে থাকেনি। ২৩ থেকে ২৯ মিনিটের মধ্যে তারা আরও চারটি গোল করে ব্রাজিলিয়ানদের সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেয়। মাঠ, গ্যালারি এমনকি পুরো দেশ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধেও পরিস্থিতি বদলায়নি; জার্মানি আরও দুই গোল করে এবং ব্রাজিল শেষ মুহূর্তে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করে।

৭-১; ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়গুলোর একটি, যা 'মিনেইরাজো ট্রাজেডি' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক গভীর ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।

জার্মানি পরে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে।

80

নেদারল্যান্ডস ৫-১ স্পেন (২০১৪)

২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ বি'র উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় আগের বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। স্পেন তখন ডিফেন্ডিং ইউরোপিয়ান ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।


জাবি আলোনসো ২৭তম মিনিটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। শুরুতে মনে হচ্ছিল সবকিছুই তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আসে সেই মুহূর্ত, যা পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

রবিন ফন পার্সি ১৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক উড়ন্ত হেডে গোল করেন, যা গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসসহ পুরো স্প্যানিশ ডিফেন্সকে হতবাক করে দেয়।

এরপর নেদারল্যান্ডস আরও চারটি গোল করে স্পেনকে বিধ্বস্ত করে। এটি ছিল বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অন্যতম বড় পরাজয়।

স্পেন পরবর্তীতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, আর নেদারল্যান্ডস টুর্নামেন্ট শেষ করে তৃতীয় হয়ে।

90

দক্ষিণ কোরিয়া ২-০ জার্মানি (২০১৮)

বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনেক বড় অঘটনই হয়েছে যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছে, ২০১৮ আসরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। এটি ছিল টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয়।

জার্মানি শেষ গ্রুপ ম্যাচে জিততেই মাঠে নেমেছিল, কারণ নকআউটে যেতে তাদের জয় প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় বাদ পড়ে গিয়েছিল এবং খেলছিল শুধুই সম্মানের জন্য।

ম্যাচটি দীর্ঘ সময় গোলশূন্য অবস্থায় ছিল, ফলে জার্মানি জয়ের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলে আক্রমণ চালায়। আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনজুরি টাইমের দুই মিনিটে কিম ইয়ং-গওন কর্নার থেকে গোল করে কোরিয়াকে এগিয়ে দেন।

এরপর জার্মান গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার আক্রমণে উঠে গেলে ভুল পাসের সুযোগে দক্ষিণ কোরিয়া বল পেয়ে খালি পোস্টে আরও একটি গোল করে দেয়। এতেই জার্মানির বিদায় নিশ্চিত হয়। ১৯৩৮ সালের পর এই প্রথমবার জার্মানি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়, এবং বিশ্বকাপে কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে এটিই তাদের প্রথম হার।

সৌদি আরব ২-১ আর্জেন্টিনা (২০২২)

আর্জেন্টিনা কাতার বিশ্বকাপে এসেছিল টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ছিল তারা।

ম্যাচের দশম মিনিটে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। অফসাইডের কারণে আলবিসেলেস্তেদের আরও কয়েকটি গোল বাতিল হলেও মনে হচ্ছিল ব্যবধান বাড়ানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পুরো চিত্র পাল্টে যায়।

৪৮তম মিনিটে সালেহ আল-শেহরি লং বল থেকে দারুণ শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

এর পাঁচ মিনিট পর সালেম আল-দাওসারি বাঁ দিক থেকে কাট করে অসাধারণ এক শটে বল জালে পাঠিয়ে সৌদি আরবকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব আর্জেন্টিনার প্রবল আক্রমণের চাপ সামলে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দেয়।

তবে, সেই হারের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্ট জিতে নেয়, আর সৌদি আরব গ্রুপ পর্বে বিদায় নিলেও এই জয় বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের স্মরণীয় করে রেখেছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
শুরুতেই এবাদত-হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দুই উইকেট তুলে নিলেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চোখ রাঙাতে থাকে রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাট। আবারও সেই জুটি ভেঙে দেন এবাদত। এরপরও ড্রয়ের স্বপ্ন দেখছে আফগানিস্তান। এদিকে জিততে হলে পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার আরও ৭ উইকেট। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। ফলে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। টাইগার পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন আব্দুল মালিক। আউট হওয়ার আগে করেন ২ রান। পরের উইকেটে নামা শহীদুল্লাহকে ১৪ রানে আউট করেন হাসান মাহমুদ। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও অভিজ্ঞ রহমত শাহ। দেখে-শুনেই খেলছিলেন এই দুই ব্যাটার। তবে এই জুটি দিন শেষ করতে পারেনি আফগানরা। বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন রহমত। আউট হওয়ার আগে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১২৪ বলে ৫১ রান। এরপর হাশমতউল্লাহ শহীদিকে নিয়ে দিন শেষ করেন আতাল। ১২৬ বলে ৩৫ রানে আতাল ও ২৭ বলে ১৯ রানে হাশমত অপরাজিত থাকেন। এদিকে তৃতীয় দিন শেষ বিকেলের ঝড়ে ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২২৩ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে তারা। ৫ রানে অপরাজিত লিটনের সঙ্গে নামেন মিরাজ, তখনও তিনি রানের খাতা খোলেননি। এই দুজনের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় স্কোর তিনশ পার করেন এবং লিড ছাড়ায় চারশ রানের। লিটন ১৪ ও ২৬ রানে জীবন পেয়ে ৬১ বলে এক টেস্টে টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ সেঞ্চুরি করেন। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বেশ আগ্রাসী ছিলেন তিনি। ধীরে এগোতে থাকেন মিরাজ। এর আগে দুইবার জীবন পাওয়া লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান হতেই ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকে পৌঁছান। কায়েস আহমেদের বলেই দুইবার জীবন পান তিনি। প্রথমবার স্লিপের ফিল্ডার কামাল ক্যাচ ফেলে দেন। তারপর কায়েস নিজেই ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন, ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় তাকে। বড় লিড এনে দেওয়ার পথে বড় জুটি গড়েন লিটন-মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার মিলে তোলেন ১৪৯ রান। তাতেই লিডের পাহাড় গড়ে সফরকারীরা। ফিফটি করেই থামেননি লিটন। ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। এরপর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। ১০২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। ১১৭ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ১৪টি চারে সাজানো। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিরাজও। তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ বলে ৫২ রানে। ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাট করতে নামবে স্বাগতিক আফগানিস্তান। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে। তারপর হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে সফরকারী দল। আরটিভি/ এসকেডি
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
লিটনের সেঞ্চুরিতে লিডের পাহাড়ে বাংলাদেশ
আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম শেসনটি টাইগাররা নিজেদের করে নিয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) শেষ বিকেলে ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আজ দিনের প্রথম সেশনে আফগানিস্তানের বোলারদের হতাশা উপহার দিয়েছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে লিড সাড়ে চারশর কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তারা।
লিটনের সেঞ্চুরিতে লিডের পাহাড়ে বাংলাদেশ
ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর ক্লাবটির প্রতি সমর্থন জানাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন সমর্থকরা। লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ম্যাচের আগে আকাশে শত শত বাতাসভরা কলা উড়িয়ে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন তারা।
ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ক্লাবে লিটন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ক্লাবে লিটন
চমক দিয়ে হংকং সিক্সেসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, ফিরলেন সাব্বির
হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সাত সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত স্কোয়াডে চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। আর দলকে নেতৃত্ব দেবেন আবু হায়দার রনি। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত হংকংয়ের টিন কোয়াং রোড রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে ছয় ওভারের এই টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে মোট ১২টি দেশ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ‘বি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে এই দুই দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে রনির দল। গ্রুপের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পর্বে বাংলাদেশের অবস্থান। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপের শীর্ষে থাকা দলগুলো মূল প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে খেলবে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলগুলো খেলবে প্লেট প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে। আর গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর জন্য থাকছে বোল প্রতিযোগিতা। হংকং সিক্সেসের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের সাত সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি, সামিউন বশির, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আহরার আমিন, সাব্বির রহমান ও হাবিবুর রহমান সোহান। অভিজ্ঞ সাব্বির রহমানের অন্তর্ভুক্তি দল ঘোষণায় বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ পর্বে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়া। হংকং সিক্সেসের জন্য বাংলাদেশের সাত সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি, সামিউন বশির, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আহরার আমিন, সাব্বির রহমান ও হাবিবুর রহমান সোহান। আরটিভি/এসকে
চমক দিয়ে হংকং সিক্সেসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, ফিরলেন সাব্বির
আরও পড়ুন
ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ ফাইনালের সাক্ষী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
এবারই প্রথম বিশ্বকাপজয়ীদের হাতে উঠবে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ: রাবি যেন এক টুকরো ফুটবল গ্যালারি
সেমিফাইনালে উঠেই সমর্থকদের যে বার্তা দিলেন আর্জেন্টিনার কোচ