ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

১৩টি দল থেকে ৪৮টি দল, শতবর্ষের পথে ফুটবল বিশ্বকাপ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ফাইল ছবি

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ফুটবলের যে আসর শুরু হয়েছিল মাত্র ১৩ দল নিয়ে, প্রায় এক শতাব্দী পর ২০২৬ সালে সেই বিশ্বকাপ দাঁড়িয়েছে ৪৮ দলের মহাযজ্ঞে।

এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে টুর্নামেন্টটি। দল বেড়েছে, ম্যাচ বেড়েছে, বেড়েছে অংশগ্রহণের পরিধিও। ১২টি গ্রুপ, নতুন করে যুক্ত হওয়া শেষ বত্রিশ পর্ব এবং সব মিলিয়ে ১০৪ ম্যাচ নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ আগের যে কোনো আসরের চেয়ে অনেক বড়।

কিন্তু শুরুটা ছিল একেবারেই আলাদা। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দেশ। তখন ফিফার সদস্যসংখ্যাও ছিল সীমিত। ফিফার সদস্য সব দেশকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে সবাই উরুগুয়েতে যায়নি। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে জাপান ও সিয়াম, বর্তমান থাইল্যান্ড, অংশ নেয়নি। আর মিসর আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার জাহাজ মিস করায় প্রথম আসরে খেলতে পারেনি।

প্রথম বিশ্বকাপের কাঠামোও ছিল সংক্ষিপ্ত। চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল দলগুলোকে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সরাসরি সেমিফাইনালে উঠত। এখনকার মতো দীর্ঘ নকআউট, শেষ ষোলো বা শেষ বত্রিশের চাপ তখন ছিল না।

বদল এসেছে ট্রফিতেও। ১৯৩০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছিল জুলে রিমে ট্রফি, যার নকশা করা হয়েছিল বিজয়ের গ্রিক দেবী নাইকির আদলে। পরে সেটির জায়গা নেয় বর্তমানের পরিচিত সোনালি গ্লোব ট্রফি, যা এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় প্রতীক।

বিশ্বকাপের পরিসর ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। ১৯৮২ সালে প্রথমবার দলসংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ২৪। সেই আসরে ছিল দুটি গ্রুপ পর্ব। তবে জটিল ফরম্যাট পরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে দলসংখ্যা দাঁড়ায় ৩২-এ। প্রায় তিন দশক সেই কাঠামোই ছিল বিশ্বকাপের পরিচিত রূপ।

আরও পড়ুন

২০২৬ সালে এসে আবার বড় পরিবর্তন। এবার ৪৮ দল নিয়ে মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ। এতে শুধু বড় দল নয়, ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্যও খুলেছে নতুন দরজা। আগে যেসব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব সীমিত ছিল, এবার তাদের অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে।

ইউরোপ থেকে সর্বোচ্চ ১৬টি দল খেলবে। আফ্রিকা পেয়েছে ৯টি জায়গা, এশিয়া ৮টি। দক্ষিণ আমেরিকা ও কনকাকাফ থেকে থাকছে ৬টি করে দল। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো কনকাকাফের হিসাবের মধ্যেই রয়েছে। ওশেনিয়া প্রথমবারের মতো সরাসরি একটি নিশ্চিত জায়গা পেয়েছে, যেখানে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপের বৈশ্বিক চরিত্রও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। প্রথম আসরে ইউরোপ ও আমেরিকার দলই ছিল মূল অংশগ্রহণকারী। ১৯৩৪ সালে মিসরের মাধ্যমে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব শুরু হয়। আর ২০২৬ সালে এসে প্রায় সব মহাদেশের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত।

এই সম্প্রসারণের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু বড় নয়, আরও বৈচিত্র্যময়ও। নতুন দল, নতুন গল্প, নতুন স্বপ্ন নিয়ে এবার মাঠে নামবে ৪৮ দেশ। ১৯৩০ সালের ছোট্ট টুর্নামেন্ট থেকে ২০২৬ সালের ১০৪ ম্যাচের মহাযজ্ঞ, বিশ্বকাপ এখন সত্যিকার অর্থেই পৃথিবীর খেলা।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
শুরুতেই এবাদত-হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দুই উইকেট তুলে নিলেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চোখ রাঙাতে থাকে রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাট। আবারও সেই জুটি ভেঙে দেন এবাদত। এরপরও ড্রয়ের স্বপ্ন দেখছে আফগানিস্তান। এদিকে জিততে হলে পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার আরও ৭ উইকেট। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। ফলে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। টাইগার পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন আব্দুল মালিক। আউট হওয়ার আগে করেন ২ রান। পরের উইকেটে নামা শহীদুল্লাহকে ১৪ রানে আউট করেন হাসান মাহমুদ। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও অভিজ্ঞ রহমত শাহ। দেখে-শুনেই খেলছিলেন এই দুই ব্যাটার। তবে এই জুটি দিন শেষ করতে পারেনি আফগানরা। বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন রহমত। আউট হওয়ার আগে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১২৪ বলে ৫১ রান। এরপর হাশমতউল্লাহ শহীদিকে নিয়ে দিন শেষ করেন আতাল। ১২৬ বলে ৩৫ রানে আতাল ও ২৭ বলে ১৯ রানে হাশমত অপরাজিত থাকেন। এদিকে তৃতীয় দিন শেষ বিকেলের ঝড়ে ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২২৩ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে তারা। ৫ রানে অপরাজিত লিটনের সঙ্গে নামেন মিরাজ, তখনও তিনি রানের খাতা খোলেননি। এই দুজনের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় স্কোর তিনশ পার করেন এবং লিড ছাড়ায় চারশ রানের। লিটন ১৪ ও ২৬ রানে জীবন পেয়ে ৬১ বলে এক টেস্টে টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ সেঞ্চুরি করেন। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বেশ আগ্রাসী ছিলেন তিনি। ধীরে এগোতে থাকেন মিরাজ। এর আগে দুইবার জীবন পাওয়া লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান হতেই ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকে পৌঁছান। কায়েস আহমেদের বলেই দুইবার জীবন পান তিনি। প্রথমবার স্লিপের ফিল্ডার কামাল ক্যাচ ফেলে দেন। তারপর কায়েস নিজেই ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন, ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় তাকে। বড় লিড এনে দেওয়ার পথে বড় জুটি গড়েন লিটন-মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার মিলে তোলেন ১৪৯ রান। তাতেই লিডের পাহাড় গড়ে সফরকারীরা। ফিফটি করেই থামেননি লিটন। ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। এরপর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। ১০২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। ১১৭ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ১৪টি চারে সাজানো। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিরাজও। তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ বলে ৫২ রানে। ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাট করতে নামবে স্বাগতিক আফগানিস্তান। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে। তারপর হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে সফরকারী দল। আরটিভি/ এসকেডি
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
লিটনের সেঞ্চুরিতে লিডের পাহাড়ে বাংলাদেশ
আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম শেসনটি টাইগাররা নিজেদের করে নিয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) শেষ বিকেলে ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আজ দিনের প্রথম সেশনে আফগানিস্তানের বোলারদের হতাশা উপহার দিয়েছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে লিড সাড়ে চারশর কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তারা।
লিটনের সেঞ্চুরিতে লিডের পাহাড়ে বাংলাদেশ
ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর ক্লাবটির প্রতি সমর্থন জানাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন সমর্থকরা। লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ম্যাচের আগে আকাশে শত শত বাতাসভরা কলা উড়িয়ে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন তারা।
ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ক্লাবে লিটন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ক্লাবে লিটন
চমক দিয়ে হংকং সিক্সেসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, ফিরলেন সাব্বির
হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সাত সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত স্কোয়াডে চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। আর দলকে নেতৃত্ব দেবেন আবু হায়দার রনি। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত হংকংয়ের টিন কোয়াং রোড রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে ছয় ওভারের এই টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে মোট ১২টি দেশ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ‘বি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে এই দুই দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে রনির দল। গ্রুপের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পর্বে বাংলাদেশের অবস্থান। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপের শীর্ষে থাকা দলগুলো মূল প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে খেলবে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলগুলো খেলবে প্লেট প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে। আর গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর জন্য থাকছে বোল প্রতিযোগিতা। হংকং সিক্সেসের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের সাত সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি, সামিউন বশির, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আহরার আমিন, সাব্বির রহমান ও হাবিবুর রহমান সোহান। অভিজ্ঞ সাব্বির রহমানের অন্তর্ভুক্তি দল ঘোষণায় বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ পর্বে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়া। হংকং সিক্সেসের জন্য বাংলাদেশের সাত সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি, সামিউন বশির, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আহরার আমিন, সাব্বির রহমান ও হাবিবুর রহমান সোহান। আরটিভি/এসকে
চমক দিয়ে হংকং সিক্সেসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, ফিরলেন সাব্বির
আরও পড়ুন
ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ ফাইনালের সাক্ষী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
এবারই প্রথম বিশ্বকাপজয়ীদের হাতে উঠবে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ: রাবি যেন এক টুকরো ফুটবল গ্যালারি
সেমিফাইনালে উঠেই সমর্থকদের যে বার্তা দিলেন আর্জেন্টিনার কোচ