ক্রোয়েশিয়ার বাতিল হওয়া গোল নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৯ পিএম


ক্রোয়েশিয়ার বাতিল হওয়া গোল নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিল ফিফা
ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার নাটকীয়ভাবে বাতিল হওয়া গোল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, অফিসিয়াল ম্যাচ বলের ভেতরে থাকা সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে ইগর মাতানোভিচের অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্পর্শ শনাক্ত হওয়ায় সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি কার্যকর হয় এবং শেষ পর্যন্ত গোলটি বাতিল করা হয়। 

ম্যাচের যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের ভাসানো বল পর্তুগালের রেনাতো ভেইগার গায়ে লেগে ইগর মাতানোভিচকে স্পর্শ করে মারিও পাসালিচের কাছে পৌঁছায়। এরপর পাসালিচের পাস থেকে জালে বল পাঠান ইয়োসকো ভার্দিওল। নরওয়ের রেফারি এসপেন এসকাস প্রথমে গোলের স্বীকৃতি দিলে উল্লাসে মেতে ওঠেন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা।

তবে ভিএআরের পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ফিফা জানায়, অ্যাডিডাসের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ট্রিওন্ডা-তে স্থাপিত কানেক্টেড বল প্রযুক্তির সেন্সর মাতানোভিচের প্রায় চোখে না-দেখা স্পর্শটি শনাক্ত করে। টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখানো গ্রাফেও ওই মুহূর্তে একটি ক্ষুদ্র স্পাইক দেখা যায়, যা বলের সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শের প্রমাণ হিসেবে ধরা পড়ে।

স্পর্শ নিশ্চিত হওয়ার পর সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি খেলোয়াড়দের অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, মাতানোভিচ বল স্পর্শ করার মুহূর্তে মারিও পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। সেই কারণেই ভিএআর ও মাঠের রেফারি যৌথভাবে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

ফিফা আরও জানিয়েছে, কানেক্টেড বল টেকনোলজি অ্যাডিডাস ও কিনেক্সনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। বলের ভেতরে থাকা মোশন সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে শত শত তথ্য সংগ্রহ করে, যার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ক্ষুদ্রতম স্পর্শও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রযুক্তিটির কার্যপ্রণালি অনেকটা ক্রিকেটের স্নিকোমিটারের মতো, যা ব্যাট ও বলের সূক্ষ্ম সংস্পর্শও শনাক্ত করতে সক্ষম।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রোয়েশিয়ার প্রধান কোচ জ্লাতকো দালিচ। তার ভাষায়, ভিএআর ফুটবলের আবেগকে হত্যা করে।

অন্যদিকে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সব ধরনের সন্দেহ দূর করতেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন

ফিফার ব্যাখ্যার মাধ্যমে ম্যাচটির সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত নিয়ে চলা বিতর্কে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। ফিফার দাবি, বলের সেন্সর, সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি এবং ভিএআরের সমন্বিত ব্যবহারের ফলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission