বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে ফিফা। লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে খেলার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বালোগানের লাল কার্ডের ঘটনা নিয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এর কয়েকদিন পরই ফিফা জানায়, তাদের শৃঙ্খলাবিধির একটি বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তিনি সোমবার (৬ জুলাই) বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন।
২৫ বছর বয়সী বালোগান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এর ফলে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার খেলার সুযোগ ছিল না।
তবে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে নিষেধাজ্ঞাটি এক বছরের প্রবেশন-এ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ লাল কার্ড বহাল থাকলেও তাৎক্ষণিক এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। তবে আগামী এক বছরের মধ্যে একই ধরনের অপরাধ করলে স্থগিত থাকা শাস্তি নতুন শাস্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্যকর হবে।
ফিফার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএস সকার। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট এবং এখন দলের পুরো মনোযোগ বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনোও সিদ্ধান্তটিকে ন্যায়সংগত বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, বসনিয়ার বিপক্ষে বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, শাস্তি স্থগিতের প্রক্রিয়ায় তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না।
এদিকে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, "সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এবং বড় একটি অন্যায় সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর তার প্রভাব নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। ফলে এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ফুটবলের ন্যায্যতা ও সততার প্রশ্ন তোলে। বিষয়টি নিয়ে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপের বিষয় বিবেচনা করছে।
বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়াও কটাক্ষ করে বলেছেন, মনে হচ্ছে ৫ জুলাই নয়, যেন ১ এপ্রিল— 'এপ্রিল ফুল' দিবস চলছে।
এর আগে একই ধরনের নজির গড়েছিলেন পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সহিংস আচরণের দায়ে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেও ফিফা পরে তার শেষ দুই ম্যাচের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করেছিল। বালোগানের ক্ষেত্রেও একই বিধি প্রয়োগ করে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলার সুযোগ করে দিল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
আরটিভি/এমএইচজে



