২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। এই হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হয়ে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ও।
তবে ম্যাচের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্পেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পর্তুগালের নিজেদের কিছু কৌশলগত ভুলই তাদের বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতিরিক্ত রোনালদো-নির্ভরতা
৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বয়সের কারণে তার গতি ও তীক্ষ্ণতা আগের মতো না থাকায় বেশ কয়েকটি আক্রমণ ভেস্তে যায়। শেষ দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মিডফিল্ড থাকা সত্ত্বেও পর্তুগালের আক্রমণে স্বাভাবিক ছন্দ দেখা যায়নি।
রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফের্নান্দেজের মতো সৃজনশীল মিডফিল্ডার থাকা সত্ত্বেও পর্তুগাল পুরো ম্যাচে রক্ষণাত্মক ও পাল্টা আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিবর্তে বারবার রক্ষণে ফিরে যেতে হয়েছে দলটিকে, যার সুযোগ নিয়েছে স্পেন।
সহজ সুযোগ নষ্ট
ম্যাচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে বের্নার্দো সিলভা ছয় গজ দূর থেকে হেডে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এর আগে ব্রুনো ফের্নান্দেজও প্রতিপক্ষের বক্সে ভালো অবস্থান থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এসব মিসই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
শেষ মুহূর্তের রক্ষণাত্মক অসতর্কতা
অতিরিক্ত সময়ে দ্রুত ফ্রি-কিক থেকে আক্রমণ সাজায় স্পেন। সেই মুহূর্তে পর্তুগালের রক্ষণভাগ পুরোপুরি অগোছালো ছিল। ফেরান তোরেসের পাস থেকে মিকেল মেরিনো যে গোলটি করেন, তার পেছনে ছিল পর্তুগিজ ডিফেন্সের এক মুহূর্তের মনোযোগহীনতা।
মানসিক দৃঢ়তার অভাব ও পরিকল্পনার ঘাটতি
পুরো ম্যাচেই পর্তুগালকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার মতো স্পষ্ট পরিকল্পনা কিংবা আগ্রাসী মানসিকতা দেখা যায়নি। প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে ভরপুর দল হওয়া সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তারা।
স্পেনের কাছে হারের পেছনে প্রতিপক্ষের দক্ষতার পাশাপাশি পর্তুগালের নিজেদের কৌশলগত ভুল, সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণভাগের অসতর্কতাই বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অধ্যায়। একই সঙ্গে পর্তুগালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কোচের কৌশল এবং দল পুনর্গঠন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে।
আরটিভি/এসকে



