বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ চারে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু আরেকটি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেনি আলবিসেলেস্তেরা, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও গড়েছে একাধিক নতুন রেকর্ড।
বিশ্বকাপে এটি আর্জেন্টিনার সপ্তম সেমিফাইনাল। এর আগে ১৯৩০, ১৯৭৮, ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২২ সালে শেষ চারে উঠেছিল তারা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের ছয়বারই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
তবে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে বর্তমানের মতো সেমিফাইনাল পর্ব ছিল না। সে সময় দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে। ওই পর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকে সরাসরি ফাইনালে উঠেছিল স্বাগতিক আর্জেন্টিনা। ফলে বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার অজেয় রেকর্ড এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে।
এবার সেই ইতিহাস ধরে রাখার নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে স্কালোনির দলের সামনে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড।
এদিকে এবারের বিশ্বকাপে তৈরি হয়েছে আরেকটি বিরল ইতিহাস। ১৯৯২ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথম র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দলই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এক নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার সঙ্গে শেষ চারে রয়েছে দুই নম্বর স্পেন, তিন নম্বর ফ্রান্স এবং চার নম্বর ইংল্যান্ড।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে অতিরিক্ত সময়ের রেকর্ডে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। এর ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অতিরিক্ত সময়ে সর্বাধিক ৯ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে তারা।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে এটি আর্জেন্টিনার পঞ্চম জয়। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই তালিকায় তাদের অবস্থান দ্বিতীয়। শীর্ষে রয়েছে ইতালি, যাদের অতিরিক্ত সময়ে জয়ের সংখ্যা ছয়।
ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও আত্মবিশ্বাস সবকিছুই এখন আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলছে। তবে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে সেমিফাইনালে কঠিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে হারাতেই হবে। এখন দেখার বিষয়, ৯২ বছরের সেই নিখুঁত সেমিফাইনাল ইতিহাস ধরে রেখে আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছাতে পারে কি না স্কালোনির দল।
আরটিভি/এসকে



