২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে যখন বাংলাদেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে, তখন সেই আবেগে শামিল হতে সুদূর থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসেছেন দুই আর্জেন্টাইন নাগরিক। ফার্নান্দা ও জনাথান নামের ওই দুই সমর্থক রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল ম্যাচটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে বসেই উপভোগ করবেন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর সোনিয়া মুন্নি।
তিনি জানান, ফার্নান্দা ও জনাথান প্রায় এক মাস ধরে থাইল্যান্ডে ভ্রমণে ছিলেন। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত নেন, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি বাংলাদেশে এসে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে দেখবেন।
সোনিয়া মুন্নির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পর্যটক তখন থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই শহরে অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করে তারা সেখান থেকে ব্যাংককে উড়ে আসেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দ্রুত ভিসা সংগ্রহ করেন।
ভিসা নেওয়ার সময় তারা বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের একটি ভিডিও দেখিয়ে জানতে চান, ভিডিওটির স্থান কোথায়। পরে জানা যায়, সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকা। সেখানেই হাজারো সমর্থকের সঙ্গে ফাইনাল উপভোগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তারা।
দূতাবাসের কাউন্সেলর আরও জানান, অফিস শেষে তিনি দেখতে পান, ফার্নান্দা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দূতাবাসে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, Cuando lo más Argentino que tenés cerca es Bangladesh!" যার বাংলা অর্থ, "যখন আপনার সবচেয়ে কাছের আর্জেন্টাইন অনুভূতিটাই হলো বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে সোনিয়া মুন্নি বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো আনন্দঘন মুহূর্তে নিজের দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের মানুষের আর্জেন্টিনাপ্রীতি দেখে তাদের কাছে বাংলাদেশ যেন আর্জেন্টিনারই একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও লিখেছেন, কেবল ক্রীড়া কূটনীতিই নয়, মানুষের আবেগই ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে দুই জাতিকে একসূত্রে গেঁথে দিতে পারে।
আগামীকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে হাজারো বাংলাদেশি সমর্থকের সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে নিজ দেশের জন্য গলা মেলাবেন ফার্নান্দা ও জনাথান। ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মানুষের এই আবেগপূর্ণ বন্ধন দুই দেশের সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আরটিভি/এসকে



