বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন এই ফরাসি তারকা। তবে ব্যক্তিগত এই অনন্য অর্জনের চেয়েও ফাইনালে খেলতে না পারার আক্ষেপই বেশি তাড়া করছে তাকে।
শনিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স। ম্যাচে দুটি গোল করেন এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২-এ, যা মেসির ২১ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়ে।
চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ইতোমধ্যে করেছেন ১০ গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনিই এখন শীর্ষে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি তাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতবেন এমবাপ্পে। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপেও ৮ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনে সন্তুষ্ট নন ফরাসি অধিনায়ক। ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে আমি বরং ফাইনালে খেলতে চাইতাম।
এক আসরে ১০ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন এমবাপ্পে। তার ওপরে রয়েছেন শুধু ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৩ গোল, ১৯৫৮) এবং হাঙ্গেরির সান্দর কোকসিস (১১ গোল, ১৯৫৪)। জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারও ১৯৭০ বিশ্বকাপে করেছিলেন ১০ গোল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দলটি। ৪৮তম মিনিটে এমবাপ্পের গোলে ব্যবধান কমে। পরে ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলের গোল ফ্রান্সকে লড়াইয়ে ফেরায়। ৬৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েন এমবাপ্পে। তবে শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি ফরাসিরা।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, দুই অর্ধ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের সেরাটা খেলতে পারিনি। আমরা যেন হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।
এই ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ। তাই তার বিদায়ী ম্যাচটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন বলে জানান এমবাপ্পে।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা জিততে পারিনি, যা কোচের জন্য খুবই দুঃখজনক। প্রথমার্ধ দেখে মনে হতে পারে আমরা তাকে হতাশ করেছি, কিন্তু সেটি মোটেও সত্য নয়। এই একটি ম্যাচ কখনোই দিদিয়ের দেশমের অসাধারণ অবদানকে ম্লান করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, দেশমের অধীনেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল তারা। আর এবার সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় ফরাসিদের।
আরটিভি/এসকে



