আধুনিক ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ক্লাউডফ্লেয়ার হলো একটি গ্লোবাল কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং সাইবার নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি ওয়েবসাইটকে সুরক্ষা এবং দ্রুত কন্টেন্ট বিতরণে সহায়তা করে এই প্রতিষ্ঠানটি। ফলে যখন ক্লাউডফ্লেয়ারে বিভ্রাট দেখা দেয়, তার প্রভাব পড়ে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট এবং অনলাইন পরিষেবার ওপর।
মঙ্গলবার(১৮ নভেম্বর) দুপুরের পর যখন বিশ্বের অনেক বড় বড় ওয়েবসাইট ঠিকমতো কাজ করছিল না, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (X) ও অন্যান্য সাইটে ঢুকতে গেলে ব্যবহারকারীরা মূল পেইজের বদলে ক্লাউডফ্লেয়ারের একটি বার্তা দেখতে পান। সেই বার্তায় লেখা ছিল, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলে ক্লাউডফ্লেয়ারের সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করছে না এবং কয়েক মিনিট পরে আবার চেষ্টা করুন।
কিন্তু এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কটিতে বড় ধরনের বিভ্রাটের মূল কারণ কী ছিল?
প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, ক্লাউডফ্লেয়ারের বিশ্বব্যাপী বিভ্রাটের পেছনে মূল কারণ থাকে তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক বা রাউটিং সিস্টেমে ঘটা প্রযুক্তিগত ত্রুটি। সাধারণত, বড় ধরনের বিভ্রাটগুলো নিম্নলিখিত কারণে ঘটে থাকে..
১. ভুল কনফিগারেশন আপডেট : এটি প্রায়শই ক্লাউডফ্লেয়ার বিভ্রাটের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। বিশ্বজুড়ে তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত ও আপডেটেড রাখতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায়ই তাদের সফটওয়্যার বা রাউটিং কনফিগারেশন আপডেট করে। কোনো একটি আপডেটে যদি সামান্য ভুল কোডিং বা প্যারামিটার ব্যবহার করা হয়, তবে তা দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং সার্ভারগুলোকে ক্র্যাশ করে দেয়। পূর্বে বেশ কয়েকটি বড় বিভ্রাটের জন্য এই ধরনের ভুল কনফিগারেশন বা বাজে ডিপ্লয়মেন্ট দায়ী ছিল।
২. কোর রাউটিংয়ে সমস্যা : ক্লাউডফ্লেয়ারের নেটওয়ার্ক বিভিন্ন অঞ্চলের ট্র্যাফিককে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বর্ডার গেটওয়ে প্রটোকলসহ জটিল রাউটিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। এই কোর রাউটিং সিস্টেমে যদি কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, তবে পুরো নেটওয়ার্কের ট্র্যাফিক স্থবির হয়ে যেতে পারে। যেমন, একবার তারা ঘোষণা করেছিল যে তাদের একটি নির্দিষ্ট রুটের সফটওয়্যার আপডেটে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী রাউটিংয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল।
৩. বিদ্যুৎ বা হার্ডওয়্যারে সমস্যা : যদিও বিরল, তবে কোনো একটি প্রধান ডেটা সেন্টারে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা সার্ভার হার্ডওয়্যার ব্যর্থ হলে সেটির প্রভাব অন্য সার্ভারগুলোতে পড়তে পারে। সাধারণত, ক্লাউডফ্লেয়ারের শক্তিশালী ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকায় দ্রুত ট্র্যাফিক অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়,কিন্তু কখনও কখনও প্রাথমিক প্রভাবটি দৃশ্যমান হয়।
৪. তৃতীয় পক্ষের পরিষেবা ব্যর্থতা: কখনও কখনও ক্লাউডফ্লেয়ার নিজেই অন্য একটি পরিষেবা বা প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করে। সেই তৃতীয় পক্ষের সেবায় কোনো ব্যর্থতা ঘটলে তা ক্লাউডফ্লেয়ারের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এক বিভ্রাটে বহু সাইট বন্ধ কেন?
ঝুঁকির দিক হলো, ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো কোম্পানিতে কোনো সমস্যা হলে অনেক ওয়েবসাইট একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ নানা ধরনের অসংখ্য ওয়েবসাইট তাদের সেবা ব্যবহার করছে। ফলে এক জায়গায় সমস্যা হলে সম্পর্ক নেই এমন অনেকগুলো ওয়েবসাইটও হঠাৎ করে কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
গত মাসেও অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-এর সিস্টেমে সমস্যা হওয়ায় একইভাবে বহু ওয়েবসাইট বন্ধ হয়েছিল। এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, কীভাবে এই আড়ালের কোম্পানিগুলো বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/এআর




