প্রযুক্তি বিশ্বে গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে অ্যাপল। ব্যবহারকারীর স্পর্শ নয়, মুখ নয়, এবার আপনার হৃদস্পন্দন বা হার্টবিটই হতে চলেছে আইফোন আনলক করার পরবর্তী মাধ্যম! সম্প্রতি অ্যাপলের প্রকাশিত একটি পেটেন্ট থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। যেখানে ফোন ব্যবহারের সময় হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত (কার্ডিওভাসকুলার সিগনেচার) পড়ে ব্যবহারকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।
অ্যাপলের নতুন পেটেন্টে বর্ণনা অনুযায়ী, আইফোনের পুরো ফ্রেমে কার্ডিয়াক সেন্সর যুক্ত করা হবে। এর ফলে ব্যবহারকারী যখনই ফোনটি হাতে নেবেন, তখনই এই সেন্সরগুলি তার হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত পড়তে শুরু করবে।
এই প্রযুক্তির মূল ধারণা হলো—ফেস আইডি বা টাচ আইডির মতোই হৃদস্পন্দনের এই সংকেত ব্যবহার করে ডিভাইসটি ব্যবহারকারীকে নিষ্ক্রিয়ভাবে প্রমাণীকরণ করবে। অর্থাৎ, আলাদা করে কোনো অ্যাকশন ছাড়াই কেবল ফোন ধরার মাধ্যমেই এটি আনলক হয়ে যাবে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাও এই ধারণাকে সমর্থন করেছে। আইইইই বায়োমেট্রিক্স ওয়ার্কশপে প্রকাশিত সেই গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত সংখ্যক হৃদস্পন্দন একত্রিত করে স্মার্টফোন-ভিত্তিক হার্টবিট বায়োমেট্রিক্সের ত্রুটির হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।
যদি অ্যাপল এই প্রযুক্তি বাজারে আনতে সক্ষম হয়, তবে উচ্চমানের আইফোনগুলি পরিণত হবে আল্ট্রা পার্সোনাল ভল্ট বা অতি ব্যক্তিগত সিন্দুকে, যা কেবল আপনার হৃদস্পন্দনেই খুলবে।
প্রতিটি মানুষের হৃদস্পন্দনের ছন্দ এবং সংকেত অনন্য, অনেকটা আঙুলের ছাপ বা চোখের রেটিনার মতোই। এই কার্ডিওভাসকুলার স্বাক্ষর অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং এটি নকল করা প্রায় অসম্ভব। ফলস্বরূপ, ব্যবহারকারীরা পাবেন সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা। এটি শুধুমাত্র আইফোনকে আরও সুরক্ষিত করবে না, বরং ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে আরও মসৃণ এবং ব্যক্তিগত করে তুলবে।
আরটিভি/এআর





