নীল পাখির ডানা ঝাপটানো থেমে যাওয়ার পর ইলন মাস্কের হাত ধরে টুইটার নাম বদলে ‘এক্স’ হলেও, পুরনো সেই পরিচয় নিয়ে নতুন করে দানা বাঁধছে আইনি বিতর্ক। লোগো ও ভাষা বদলে দিয়ে মাস্ক যখন টুইটার নামটি ইতিহাসের পাতায় পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এর অস্তিত্ব বোধহয় শেষ।
কিন্তু বর্তমানে এক ভিন্ন বাস্তবতা সামনে আসছে, যা বলছে টুইটার এখনো পুরোপুরি মৃত নয়।
সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এক্স তাদের সেবার শর্তাবলি বা ‘টার্মস অফ সার্ভিস’ নতুন করে হালনাগাদ করেছে, যেখানে আবারও ‘টুইটার’ নামটি ফিরে এসেছে।
মূলত ‘অপারেশন ব্লুবার্ড’ নামক একটি উদ্যোগের দাবির প্রেক্ষিতেই মাস্কের প্রতিষ্ঠানকে এমন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
অপারেশন ব্লুবার্ড নামের ওই গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক দপ্তরে আবেদন করে দাবি করেছে যে, এক্স তাদের বিপণন ও পণ্য থেকে টুইটার এবং ‘টুইট’ শব্দটি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলেছে।
ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী, কোনো ব্র্যান্ড যদি দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থাকে তবে সেটিকে পরিত্যক্ত হিসেবে গণ্য করা যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপারেশন ব্লুবার্ড চাচ্ছে টুইটার নাম ব্যবহার করে নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পণ্য বাজারে আনতে।
তবে মাস্কের প্রতিষ্ঠানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; তারা পাল্টা আবেদনে জানিয়েছে যে টুইটার ট্রেডমার্ক এখনো তাদের একচ্ছত্র সম্পত্তি। শর্তাবলিতে নতুন করে টুইটার নামের অন্তর্ভুক্তি সেই আইনি অধিকার প্রমাণেরই একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইনি এই লড়াইয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো প্রযুক্তিগত সংযোগ।
এখনো ইন্টারনেটে twitter.com লিখলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীকে x.com-এ নিয়ে যায়। এই ডোমেইন রিডাইরেকশন আইনি লড়াইয়ে এক্সের জন্য বড় একটি ঢাল হিসেবে কাজ করছে, যা প্রমাণ করে যে ব্র্যান্ডটি এখনো কোনো না কোনোভাবে সক্রিয় রয়েছে।
এছাড়া নতুন শর্তাবলিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এক্স বা টুইটার নাম, লোগো কিংবা ডোমেইন ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি লাগবে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মাস্কের একক সিদ্ধান্তের পরও কি তবে আইনের চোখে টুইটার নামটি বেঁচে থাকবে? নীল পাখি হয়তো উড়ছে না, কিন্তু ‘টুইটার’ নামটির ভবিষ্যৎ এখন আদালতের বারান্দায় ঝুলছে।
আরটিভি/এএইচ




