যে গেম খেলে অনেকেই পেয়েছেন জীবনসঙ্গী!

আরটিভি নিউজ 

বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:১৫ পিএম


যে গেম খেলে অনেকেই পেয়েছেন জীবনসঙ্গী!
সংগৃহীত ছবি

বন্ধুদের ফোন করা, পিজা অর্ডার দিয়ে পিসিতে রুনস্কেপ খুলে বসা—দৃশ্যটি নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকের মনে হলেও, ২০২৫ সালে এসে এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে গেমিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিস্ময়। যে গেমটিকে অনেকেই কেবল স্মৃতির অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন, সেই ‘রুনস্কেপ’ এখন সমসাময়িক সব আধুনিক গেমকে টেক্কা দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা এই অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমটি বর্তমানে নিজের ২৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময় পার করছে।

বিজ্ঞাপন

গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জ্যাজেক্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই এর পেইড মেম্বার সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ বিনামূল্যে গেমটি উপভোগ করছেন। সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে একসঙ্গে ২ লাখ ৪০ হাজার খেলোয়াড় গেমে লগইন করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন, যা জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম স্টিমের শীর্ষ গেমগুলোর কাতারে রুনস্কেপকে বসিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

তবে মজার বিষয় হলো রুনস্কেপ কেবল একটি গেম নয়, অনেকের জন্য এটি জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয় ইউটিউবার ‘দ্য আর এস গাই’ রায়ান জানান, তিনি তার স্ত্রীকে এই গেমের মাধ্যমেই খুঁজে পেয়েছেন। গেমের ভেতরে মিশন সম্পন্ন করতে গিয়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব অনেক সময় গড়ায় পরিণয়ে। কমিউনিটির এই গভীর বন্ধন আর খেলোয়াড়দের কথা শোনার মানসিকতাই রুনস্কেপকে দুই দশক ধরে টিকিয়ে রেখেছে। 

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে রুনস্কেপ মূলত দুটি সংস্করণে জনপ্রিয়। একটি আধুনিক গ্রাফিক্স সমৃদ্ধ ‘রুনস্কেপ’ এবং অন্যটি ২০০৭ সালের আদলে তৈরি ‘ওল্ড স্কুল রুনস্কেপ’। পুরোনো আমেজ ধরে রাখা ওল্ড স্কুল সংস্করণটিই এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল এমএমও গেম। গেম ডিজাইনার মলি মেসনের মতে, এর সাফল্যের মূলে রয়েছে ‘রুনস্কেপিনেস’—যেখানে ব্রিটিশ রসিকতা আর মন্টি পাইথন ধাঁচের হাস্যরস খেলোয়াড়দের বারবার টেনে আনে। 

এদিকে আধুনিক গেমিং কোম্পানিগুলো যখন অর্থ উপার্জনের জন্য ইন-গেম কেনাকাটার ওপর জোর দিচ্ছে, জ্যাজেক্স তখন হাঁটছে উল্টো পথে। খেলোয়াড়দের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গেম থেকে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে। জ্যাজেক্সের সিইও জন বেলামি বলেন, আর্থিক ঝুঁকি থাকলেও আগামী ১০-১৫ বছরের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা খেলোয়াড়দের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছি। এই বিরল সিদ্ধান্ত গেমটির প্রতি মানুষের আস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

পঁচিশ বছর আগে তৈরি সেই ভার্চুয়াল চরিত্রগুলো আজও খেলোয়াড়দের জন্য একই প্রতীক্ষায় থাকে। নস্টালজিয়া আর সঠিক কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট থাকলে একটি গেম যে কখনও পুরোনো হয় না, রুনস্কেপ আজ তারই জীবন্ত প্রমাণ।

সূত্র: বিবিসি

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission