দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বায়ুদূষণের কবলে থাকলেও পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বায়ুর মানে উন্নতি দেখা গেছে। রমজানের ১ মাস বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর কয়েক লাখ মানুষ রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামে চলে যাওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ কমে গেছে। ফলে নগরীর রাস্তাঘাট এখন অনেকটাই ফাঁকা, আর এর প্রভাব বায়ুমানের ওপরও পড়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সাতসকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ১১৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৪তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। বায়ুমানের এ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একই সময়ে ১৬৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো। এ ছাড়া ১৬৫ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি শহর, ১৬০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু, ১৫৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চীনের হ্যাংজু শহর এবং ১৫২ স্কোর নিয়ে তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি।একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে যানবাহন কমে যাওয়া, নির্মাণকাজ আংশিক বন্ধ থাকা এবং জনসমাগম হ্রাস পাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বায়ুদূষণ কমেছে। তবে ছুটি শেষে মানুষ কর্মস্থলে ফিরলে পরিস্থিতি আবার আগের মতো হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
আরটিভি/ এমএ





