রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে মুকাররম নামের এক সৌদি প্রবাসীর দেহের খণ্ডিত ৭টি টুকরাে উদ্ধারের পর অবশেষে কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মুগদার পূর্ব-মানিকনগরের পাকা রাস্তার মাথায় দুটি বাড়ির মাঝের গলি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু রায়হান সোমবার (১৮ মে) গণমাধ্যমকে বলেন, রাত আড়াইটার দিকে সংবাদ পেয়ে মানিকনগরের পাকা রাস্তার মাথায় ৭৭/এ ও ৭৭ নম্বর বাড়ির মাঝের গলি থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো একটি মাথা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কালো পলিথিনের ভেতরে থাকা অর্ধগলিত মাথাটিতে পোকা ছিল। মাথার সামনের বাঁ পাশ ও ডান পাশে গভীর কাটা দাগ দেখা গেছে। পেছনের অংশে কালো চুল থাকলেও মুখমণ্ডলের সামনের অংশ বোঝার মতো অবস্থায় ছিল না।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাথাটি ময়নাতদন্তের জন্য সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এর আগে একই দিন দুপুরে মুগদার মান্ডা এলাকার প্রথম গলির একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে প্রবাসী মুকাররমের মরদেহের ৭টি টুকরো উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় ঘটনাস্থলে দেহের ৭ টুকরো পাওয়া গেলেও তখন মরদেহের মাথা পাওয়া যায়নি।
এদিকে মুগদা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার পর মুকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ৮ টুকরো করে পলিথিনে ভরে ময়লার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিকা ও তার এক বান্ধবী মিলে মুকাররমকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে রোববার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছিলেন, মান্ডার প্রথম গলির আব্দুল করিম রোডের শাহনাজ ভিলার বেজমেন্ট থেকে ৭ টুকরো লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে তার মাথা পাওয়া যায়নি। দেহটি পচা-গলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে ছিল। তবে ওইদিন তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ৬ থেকে ৭ দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে পলিথিনে ভরে বাড়িটির বেজমেন্টে ফেলে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই চলছে।
আরটিভি/এমএইচজে



