মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের বৃহত্তম নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করল ডিএনসিসি

আরটিভি নিউজ  

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৩:১২ পিএম


মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের বৃহত্তম নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করল ডিএনসিসি
বৃক্ষরোপণ করছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার বায়ু, পানি ও মাটিদূষণ মোকাবিলায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ী ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্ব পাশে গ্রিনবেল্ট চিহ্নিত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, গাছের উপকারিতা সবাই জানলেও নগর জীবনে এর বাস্তব প্রভাব উপলব্ধি করা যায় এমন উদ্যোগ খুব কম।

তিনি জানান, এই বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। এখানে এসে মানসিক স্বস্তি অনুভব করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের পরিবেশ নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

আগামী পাঁচ বছরে ৫ লক্ষ গাছ রোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানে ৩৯ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।

এর আগে একই স্থানে ফেজ–১ (চেইনেজ ০–১৫০ মিটার) অংশে ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণের কাজ গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুরু হওয়া ফেজ-২ ও ফেইজ-৩ অংশে প্রায় ২.৬০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০টি গাছ রোপণ করা হবে, যেখানে দেশীয় ফলদ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মিয়াওয়াকি পদ্ধতির এই বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন ও বায়োমিমিক্রি নীতিমালা অনুসরণ করে উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত দো-আশ মাটির সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট, রাইস হাস্ক, বোনমিল ও অর্গানিক সার মিশিয়ে বনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। জাপানি ধারণা “শিনরিন ইয়োকু” বা ‘বন স্নান’-এর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ঘন সবুজের ভেতর পদচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission