লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে আখড়াবাড়িতে ভক্তদের ভিড়

বাসস

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৪:৪০ পিএম


লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে আখড়াবাড়িতে ভক্তদের ভিড়

দোল পূর্ণিমা তিথিতে প্রতিবছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ফকির লালন শাহ স্মরণোৎসব। সাধু-গুরু, লালন ভক্তদের সরব উপস্থিতি, গান ও গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ। 

বিজ্ঞাপন

আগামীকাল (২ মার্চ) দোল পূর্ণিমা। লালন স্মরণোৎসব ঘিরে ছেউড়িয়ায় চলছে প্রস্তুতি। তবে রমজানের কারণে এবছর তিন দিনের স্মরণোৎসব এক দিনেই পালন করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

উৎসব উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালন ভক্ত বাউল ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তারা দলে দলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন। নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করছেন। আজ দুপুরে আখড়াবাড়িতে সরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে উৎসবে আসা ফকির ফাহিম বলেন, সারাবছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়িতে আসে। একে অপরের মধ্যে ভাব বিনিময় হয়। এই ভাব বিনিময় বড় ভালো লাগে।

আমেরিকা প্রবাসী মিজানুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান শুনে আসছি। সেই টান থেকেই প্রথমবারের মতো আখড়াবাড়িতে আসা। এখানে বসে বাস্তবতা অনুভব করলাম। 
তিনি বলেন, ফকির লালন সাঁইজি জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে মানব প্রেমের কথা বলে গেছেন। তার আদর্শ মানবতার আদর্শ। 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

মানিকগঞ্জ থেকে আগত সাধু তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সাঁইজির প্রেমের টানে, মায়ার টানে কয়েকদিন আগেই আখড়াবাড়িতে এসেছি। এবার পবিত্র রমজানের কারণে উৎসব একটু কম হবে।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত শান্ত ফকির বলেন, শুভ কাজ করতে গেলে একটা শুভ দিন লাগে। সেই শুভ দিন উপলক্ষে এই দোলপূর্ণিমা পূর্ণ হয়। তাই এই দিনে লালন ফকির জ্ঞানীগুণী ও ভক্তদের নিয়ে একটা সমাবেশ করতেন। সেই আলো থেকেই আমরা গুরু পরম্পরা এসে থাকি সাঁইজির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে। এখানে আসলে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা হয়। তাত্ত্বিক ও মানসিক উন্নতি হয়।

আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান বলেন, আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যায় গুরুকার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ। এরপর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে। পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার অনুষ্ঠান সীমিত। লোকসমাগমও অনেক কম হতে পারে।

জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আগত বাউল সাধক, ভক্ত, অনুরাগী এবং দর্শনার্থীদের সহযোগিতার জন্য গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

এ বছর রমজানের কারণে সোমবার (২ মার্চ) দুপুর থেকে একদিনই উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব। এবার স্মরণোৎসবে থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কেবল আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে। 

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission