কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বরখাস্তের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে বরখাস্ত হওয়া দুই গেটম্যান হলেন মেহেদী হাসান ও হেলাল উদ্দিন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যানের সঙ্গে ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, যার ফলে সিগন্যাল ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেনি। মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দ্রুত নতুন গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি বিভাগীয় এবং একটি আঞ্চলিক—এই দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে কারিগরি ত্রুটি নাকি মানবিক অবহেলা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন রেললাইনে থাকা ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের গতি এতই বেশি ছিল যে, বাসটিকে লাইনের ওপর দিয়ে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসের ভেতর আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয় উদ্ধারকর্মীদের। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। লাইন থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেনটি সরাতে আখাউড়া থেকে দ্রুত একটি রিলিফ ট্রেন আনা হয়। রেলওয়ে উদ্ধারকারী দলের প্রায় চার ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর সকালের দিকে রেললাইন পরিষ্কার করা সম্ভব হয় এবং ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে ধীরগতিতে ট্রেন চলাচল করলেও সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল করার কাজ চলছে।
আরটিভি/এআর



