জামালপুর ৭ উপজেলায় জ্বালানি সংকট, হুমকিতে ইরি-বোরো

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ  

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:০৭ পিএম


জামালপুরে৭ উপজেলায় জ্বালানি সংকট, হুমকিতে ইরি-বোরো
জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে আছে সেচ পাম্প : ছবি আরটিভি

জামালপুরের ৭ উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকটের প্রভাব সরাসরি কৃষির উপর পড়ার ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের অভিযোগ- প্রতিদিন তেলের পাম্প ও খুচরা দোকানে ঘুরেও ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চাপে। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) উপজেলার স্থানীয় কৃষকরা এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি ইরি-বোরো মওসুমে প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ধানের চাষ করা হয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে। জেলায় বিদ্যুৎ চালিত ১৯ হাজার ৭০০ এবং ডিজেল চালিত ৩৬ হাজার সেচ পাম্প রয়েছে। এরমধ্যে  ডিজেল চালিত শ্যালো ইঞ্জিন সেচ রয়েছে ৩৩ হাজার ৭০৩টি। শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে মোট ইরি-বোরো ধান চাষ হয়েছে ৪৪ হাজার ২৩৪ হেক্টর জমি।

মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষক চাঁন মিয়া জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডিজেল নির্ভর অন্যান্য ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদুৎ চালিত সেচ পাম্পগুলোরও একই অবস্থা।

বিজ্ঞাপন

সরিষাবাড়ী উপজেলার চুনিয়াপটল গ্রামের ধান চাষী কৃষক আব্দুস সোবহান বলেন, প্রতিদিন তেলের পাম্পে ঘুরছি। টাকা দিয়েও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোন দিন যদি তেল দেয়ও তখন দেয় মাত্র ২ লিটার। অথচ আমার প্রতিদিন লাগে ১৫ থেকে ২০ লিটার তেল। ফলে সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

জামালপুর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ধান চাষী আব্দুস ছামাদ জানান, ২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। নিজের একটি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। এর আওতায় প্রায় ৬ বিঘা জমি।  কিন্তু ডিজেল সংকটে এখন সেই পাম্পই প্রায় অচল হয়ে পড়ছে। 

disel
পাম্পে ডিজেলের অপেক্ষায় বসে আছেন দুই কৃষক : ছবি আরটিভি

 

প্রতিদিন ধান ক্ষেতে যে পরিমাণ পানি দেওয়া প্রয়োজন তা সম্ভব হচ্ছে না। ডিজেল সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ এর চরম লোডশেডিং থাকায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। এমতাবস্থা চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ধান চাষসহ কৃষি উৎপাদন। 

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খাঁন বলেন, জেলায় বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ কৃষিজমি। অবশিষ্ট ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কৃষিজমি ডিজেল নির্ভর। এসব এলাকায় কীভাবে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা যায় বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

জামালপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানান, বিভিন্ন পাম্পে শৃঙ্খলার মাধ্যমে তেল বিক্রির কার্যক্রম চলছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসন তদারকি করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৭ টি তেল পাম্পে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, তবে কৃষকদের বিষয়টি নিয়ে আমরা আলাদাভাবে চিন্তা করবো। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের ডিজেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে চলতি মৌসুমে ইরি বোরো চাষের কোন ক্ষতি না হয়।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission