উলশী খালের দুইপাড় লোকে লোকারণ্য। এদের মাঝে নবীন যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন প্রবীণও। তাদের মধ্যে কেউ কেউ টোকা (মাথাল) ও কোদাল হাতে এসেছেন। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবেও দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কারণ আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শার উলশী খাল নিজ হাতে কোদাল নিয়ে পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন করবেন। এতে উলশী গ্রামের বাসিন্দাদের মনে বইছে খুশির জোয়ার। তারা ভীষণ উচ্ছ্বসিত। প্রধানমন্ত্রী আসবেন। ভোর থেকেই তার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন তারা।
তাদের অপেক্ষার অবসান হয় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে। প্রধানমন্ত্রী যশোরে নেমেই দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উলশী ইউনিয়নের বেতনা নদীর সংযোগ উলশী-যদুনাথপুরের প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল। এই একই খালের খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান করেছিলেন। আজ সে সময়ের সাক্ষী উলশী গ্রামের ৯০ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেনও এসেছেন। তিনি ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের খাল-খনন অনুষ্ঠানে যেমন ছিলেন, আজও এসেছেন।
উচ্ছ্বসিত শাহাদাত হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে এসে স্কুল মাঠে নেমেছিলেন। হেঁটে এসে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে রাখেন। মাটিসহ সেই ঝুড়ি আমার মাথায় তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। আর আমার মাথার টোকা (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন।
তিনি বলেন, সেদিন খাল কাটা উদ্বোধনে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। পরে এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন খাল কাটার কাজে। হাজার হাজার মানুষ বিনা টাকায় খাল কাটার কাজে অংশ নেয়। যারা কাজ করতেন, তাদের শুধু দুপুরে রুটি আর গুড় খাওয়ানো হতো। রাষ্ট্রপতিকে ভালোবেসেই মানুষ খাল কাটতে নেমে পড়েছিলেন। আজকে তার ছেলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসলেন, খুব ভালো লাগছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত উলশী খাল পুনঃখনন স্থলে যখন আসেন, তখন শাহাদাত হোসেন সেখানেই ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধ শাহাদাত হোসেনকে কাছে ডেকে নেন। তিনি তাকে বলেন, আপনি কি আমাকে চেনেন? তার প্রশ্ন শুনে শাহাদাত হোসেন বলেন, আপনি তো জিয়াউর রহমানের সন্তান। পরে তাকে জড়িয়ে ধরে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং দোয়া চান।
উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ফলক এখনও আছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফলকটি পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে লেখা-‘উলশী-যদুনাথপুর-বেতনা নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক গণ-উপযোগ অনুগামী প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে উদ্বোধন করলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম। ১ নভেম্বর ১৯৭৬। উলশী গ্রাম, যশোহর।’
উলশী গ্রামের এক গৃহবধূ চাঁদনী খাতুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসেছেন আমাদের এলাকায়, আমরা ভাগ্যবান। খুব কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পেলাম। কি যে আনন্দ লাগছে বুঝাতে পারবো না।
উলশী গ্রামের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আসেন গোলাপ আর রজনীগন্ধা হাতে।
গোলাম হোসেন (৭৯) বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসেই আমাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। পঞ্চাশ বছর আগে তার বাবার রেখে যাওয়া খাল কেটে মরা খালে প্রাণ ফিরিয়েছেন। আজ আমরা অনেক খুশি।
স্কুলপড়ুয়া ছাত্রী সুমি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য গদখালি ফুল বাগান থেকে রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে এসেছি। কাছে তো যেতে পারিনি, দূর থেকে রজনীগন্ধা ফুল দেখিয়েছি তাকে।
আরটিভি/আইএম




