টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭ হাজার একর জমির ধান, দিশেহারা হবিগঞ্জের কৃষক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:১১ পিএম


টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের হাওরে ৭ হাজার একর ধানের জমি পানির নিচে, দিশেহারা কৃষক
বৃষ্টি ও উজানের পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান : ছবি আরটিভি

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পেয়ে মাঠের পর মাঠ পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জেলার ৪টি উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ৭৪০ হেক্টর, বা ৬ হাজার ৭৭১ একর জমির পাকা বোরো ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকদের ভাষ্য, সোনালি ধানে ভরা মাঠ কয়েকদিন পরই ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বন্যার পানিতে সবকিছু ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের চাপে হাওরের পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে, যা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে, কালবৈশাখী ঝড় ও ভারি বৃষ্টির কারণে জনজীবনেও নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এতে অন্ধকারে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

আরও পড়ুন

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রায় ২৭৪০ হেক্টর জমির পাকা ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ক্ষতির মাত্রা বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

ধান কাটার আগেই ফসল হারানোর আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সারা বছরের শ্রম, ঋণ ও বিনিয়োগ চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত পানি নেমে না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে অর্ধেকের কিছু বেশি এবং নন-হাওর এলাকায় মাত্র এক-পঞ্চমাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। ফলে এখনো বিপুল পরিমাণ ধান মাঠে রয়েছে, যা বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

চলতি বছরে জেলায় মোট এক লাখ ৪০ হাজার ৫৩২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ঘন্টায় বৃষ্টির পানি ১২৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এতে হবিগঞ্জের প্রধান নদ খোয়াইয়ের পানি বিপদ সীমার নিচে রয়েছে। তবে, এভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে শঙ্কা তৈরি হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল জানান, হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission