মাদারীপুরের কালকিনির একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করলেও চার বছরের বেশি সময় ধরে কোনো ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সুদৃশ্য একাডেমিক ভবন থাকলেও সেখানে নেই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কোলাহল। একসময় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই কলেজে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে এলেও বর্তমানে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজটির অনার্স শাখার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ক্লাস না নিয়েই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া, অনেক শিক্ষক ক্লাসের সময় ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কলেজটিতে ১২টি অনার্স কোর্স চালু থাকলেও অধিকাংশ বিভাগেই শিক্ষার্থীসংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক শিক্ষক কার্যত নিষ্ক্রিয় সময় পার করছেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা ঠিকমতো ক্লাস পাই না। পরীক্ষার সময়সূচিও অনিশ্চিত থাকে। এতে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার বলেন, আমার বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী নেই, তাহলে আমি ক্লাসে গিয়ে কী করব?
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এস. এম. জলিল বলেন, নাজমুন নাহার চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ক্লাস না নিয়ে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন নিচ্ছেন।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ. হান্নান দাড়িয়া বলেন, আমি চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। ইতোমধ্যে জেনেছি, সংশ্লিষ্ট সহকারী অধ্যাপক দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস নিচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফ-উল আরেফিন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষকদের অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং শিক্ষার্থীসংকট—সব মিলিয়ে কলেজটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ নিয়োগ, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
আরটিভি/টিআর




