ফরিদপুরে একটি সালিশ বৈঠকে কোলাকুলির সময় এক কিশোরের গোপনাঙ্গ চেপে ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২ মে) দুপুরে ফরিদপুর জেলা সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর কালিতলা এলাকায়। আহত কিশোর স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মৃধার ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী বিল্লাল মৃধা ও আনোয়ার মৃধার পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ এবং থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়।
এই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় নুরুদ্দিন শেখের বাড়িতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সালিশের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভোলা মোল্যা নামের এক ব্যক্তি কিশোরটির গোপনাঙ্গ চেপে ধরেন। এতে কিশোরটি অসুস্থ হয়ে পড়ে, বমি করে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কিশোরের বাবা আজাদ মৃধা অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করে আসছে। সালিশে আমার ছেলেকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অণ্ডকোষ চেপে ধরে। এখনো সে সুস্থ হয়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত পক্ষের বিল্লাল মৃধা বলেন, ঘটনাটি অন্যায় হয়েছে এবং সালিশে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তর্ক-বিতর্কের জেরে তার এক আত্মীয় এ কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম বাদশা মিয়া জানান, বিরোধ মেটাতে সালিশ ডাকা হয়েছিল এবং মীমাংসাও হয়ে যায়। পরে কোলাকুলির সময় ঘটনাটি ঘটে, যা দুঃখজনক।
অন্যদিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসকে



